May 27, 2026, 5:05 pm
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বিশ্লেষণ করে দলটির পররাষ্ট্রনীতিকে ‘ভারত-কেন্দ্রিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত হত্যা, ভারত থেকে পুশ-ইন এবং অমিমাংসিত পানি বণ্টনের মতো ইস্যুগুলোকে বিএনপি তাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়, বিএনপি ইশতেহারে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ‘সমতা ও আত্মসম্মান’-এর ভিত্তিতে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেছে। দলটির স্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—‘বন্ধুকে হ্যাঁ, প্রভুকে না’। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং একইভাবে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপও মেনে নেবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তে হত্যা, পুশ-ইন এবং চোরাচালান রোধে বিএনপি ‘কঠোর অবস্থান’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত।
নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতেও বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেছে এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা ও পদ্মার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীর ‘ন্যায্য হিস্যা’ আদায়ে বিএনপি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির একটি রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করতে চাইছে দলটি।
পাশাপাশি পানি ইস্যুকে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের এজেন্ডার সঙ্গেও যুক্ত করেছে বিএনপি। ইশতেহারে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সমর্থন এবং ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনা হয়ে থাকে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএনপির ইশতেহারের ভাষা ইঙ্গিত দেয় যে দলটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক আলোচনায় ভারসাম্য আনতে চাইবে। ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিলেও বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে—বিশেষ করে আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে—সহযোগিতার পথ খোলা রাখতে আগ্রহী থাকবে দলটি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপি ইশতেহারে সার্ককে পুনর্জীবিত করা এবং আসিয়ানে সদস্যপদ অর্জনের চেষ্টার কথাও বলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিকল্প বিস্তৃত হবে এবং একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।