May 22, 2026, 7:45 pm
অন্যান্য দেশের তুলনায় কম দামে সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়ায় পাকিস্তান থেকে মালবাহী ওয়াগন ও বগি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে পাকিস্তান রেলওয়ের বিভিন্ন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানায়, উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ও লাহোর সফর করে। সফরকালে তারা লাহোরের মুঘলপুরায় অবস্থিত পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারিজ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন।
পাকিস্তান রেলওয়ের লাহোরভিত্তিক কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স সচিব এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান গত শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন।
সেখানে প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির খালিলি বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে পুরো ওয়ার্কশপের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রেলওয়ের চলমান প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি ওয়ার্কশপের কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও তাদের দেখানো হয়।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলকে মুঘলপুরার লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইঞ্জিন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জানান, এই সফর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিফলন। তারা পাকিস্তান রেলওয়ের উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পাকিস্তান রেলওয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনাসহ চারটি দেশে ব্রডগেজ লাইনের জন্য ওয়াগন ও বগি সরবরাহ করছে বলে জানানো হয়।
পাক রেলওয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাসির খালিলি ডনকে জানান, শিগগিরই বাংলাদেশের রেলওয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাকিস্তান সফর করবে। ওই সফরে তারা ওয়াগন ও বগির প্রযুক্তিগত দিকসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ওয়াগন ও বগি কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে এর মধ্যেই ঢাকা আমাদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।”
এদিকে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে রেলওয়ে টু রেলওয়ে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এ ধরনের সহযোগিতায় উভয় দেশই লাভবান হবে।