July 7, 2026, 7:55 pm
তন্ময় ইসলাম: প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে আবারও ব্যয় ও সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। বাস্তব অগ্রগতি ৯৪ শতাংশে পৌঁছালেও শুধু কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট (সিডি-ভ্যাট) পরিশোধের জন্য সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পরও কেন অতিরিক্ত অর্থ ও সময় প্রয়োজন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়েছে। কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যপত্রে দেখা যায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় বর্তমান ৪ হাজার ৩৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৪৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকার পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় হবে। তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণের পরিমাণ অপরিবর্তিত রেখে ৩ হাজার ৯৩৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
কার্যপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। প্রথমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে প্রথম দফায় অক্টোবর ২০২৫ এবং দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এবার আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৬৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ হলেও বাস্তব অগ্রগতি ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রকল্পের অধিকাংশ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেবল সিডি-ভ্যাট পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা চাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
পিইসির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ কোন কোন ক্রয় প্যাকেজের বিপরীতে ব্যয় করা হবে, তা ডিপিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্যাকেজগুলোর দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতির তথ্যও সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাস্তব অগ্রগতি ৯৪ শতাংশে পৌঁছানোর পরও বাকি কাজ শেষ করতে কেন আরও ছয় মাস সময় প্রয়োজন, তার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সভায় উপস্থাপনের কথা বলেছে কমিশন। একই সঙ্গে ক্রয় কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং সিডি-ভ্যাট পরিশোধের প্রয়োজনীয়তার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়নের আগে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট মতামত ও সম্মতি নিতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটি যেহেতু বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর মতামতও নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের আর্থিক বিশ্লেষণ পুনর্মূল্যায়নেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন নির্দেশিকা অনুযায়ী ডিপিপি প্রস্তুত এবং নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব দাখিলের বিষয়েও পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির লক্ষ্য দেশের প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিত করা, খামারিদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন।
এ লক্ষ্যে ২ লাখ ৪২ হাজারের বেশি খামারিকে প্রশিক্ষণ, ৬ হাজার ৫০০টি প্রডিউসার গ্রুপ গঠন, ৪৬৬টি প্রদর্শনী খামার স্থাপন, ৪৭৫টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু, ১৩টি আধুনিক জবাইখানা নির্মাণ, ১৫০টি মিনি ডায়াগনস্টিক ল্যাব স্থাপন, ২৩৮টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভবনের সম্প্রসারণ এবং ১৫টি ডেইরি হাব প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এখন পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভায় অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়, প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো এবং তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ব্যয় ও সময়সীমা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.