June 26, 2026, 10:13 pm
তন্ময় ইসলামঃ হৃদরোগ ও কিডনি রোগের উন্নত চিকিৎসা বিভাগীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ২০১৯ সালে আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এর কাজ। এরই মধ্যে একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ, বেড়েছে ব্যয়ও। এখন আবার ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধনেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৩৩ কোটির বেশি। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা বা ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমি নির্বাচন, নির্মাণকাজ শুরুতে দীর্ঘ বিলম্ব, করোনা মহামারি, প্রকল্পের পরিধি ও নকশা পরিবর্তন, অর্থ ছাড়ে ধীরগতি, ঠিকাদারের দুর্বলতা, ঠিকাদার পরিবর্তন এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুরুতে শুধু ক্যান্সার হাসপাতাল হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরে এতে হৃদরোগ ও কিডনি চিকিৎসা যুক্ত করা হয়। এতে ভবনের নকশা, শয্যা সংখ্যা ও অবকাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে হয়, যা ব্যয় ও সময়—দুই-ই বাড়িয়ে দেয়।
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের মাত্র ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ। যদিও নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, তবে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও আসবাবপত্র স্থাপনের কাজ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে ভবন তৈরি হলেও দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম।
হাসপাতালভেদে অগ্রগতিতেও রয়েছে বড় বৈষম্য। সিলেটে নির্মাণকাজ প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হলেও ময়মনসিংহে অগ্রগতি মাত্র ৫৩ শতাংশ। সেখানে ঠিকাদারের ব্যর্থতায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট, বরিশাল ও খুলনার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আইএমইডি নির্মাণকাজে বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটিও শনাক্ত করেছে। রাজশাহীতে টাইলস স্থাপন, ব্লকের মান, অতিরিক্ত রড অপসারণ না করা এবং ঢালাইয়ের দুর্বল ফিনিশিংয়ের মতো ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে। ৮১ মাসে ২৭টি সভা হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) এবং ১১টি প্রকল্প পরিচালনা কমিটির (পিএসসি) সভা। ফলে কার্যকর তদারকি ও সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাহত হয়েছে।
আইএমইডি দ্রুত সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা, জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করেছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.