September 4, 2026, 6:57 am
পশ্চিমবঙ্গে চাঞ্চল্যকর নারদ দুর্নীতি মামলায় আসামির তালিকায় এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত করেছে ভারতের তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক ও লোকসভায় তৃণমূলের এমপি কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের নামও অন্তর্র্ভূক্ত করা হয়েছে।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতে মামলাটি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যে স্থানান্তরের আর্জি জানিয়েছে সিবিআই।
আর্জির পক্ষে যুক্তি হিসেবে সিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এই মামলার বিচারকাজ চললে তাতে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাব বিস্তারের সম্ভবনা আছে। পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে তারা আরও জানিয়েছেন, আর্জিতে মামলায় গ্রেফতার চার তৃণমূল নেতার কারা হেফাজত বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৭ মে) সকাল ১০ টার দিকে নারদ দুর্নীতি মামলার আসামি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নগর উন্নয়ন ও পৌরসভা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক (বিধানসভার সদস্য) মদন মিত্র ও বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই।
তাদের গ্রেফতারের এক ঘণ্টার মধ্যেই বেলা ১১ টার দিকে সিবিআই কার্যালয়ে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এই গ্রেফতার প্রক্রিয়াকে ‘বেআইনী’ বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তাকে গ্রেফতার করতেও সিবিআই কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ জানান তৃণমূল সভানেত্রী।
সিবিআই কর্মকর্তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগে অপারগতা জানালে তিনি বলেন, ‘তাহলে আমাকেও গ্রেফতার করুন, আমাকে গ্রেফতার না করা হলে নিজাম প্যালেস ছাড়বো না।’
সিবিআই ও তৃণমূলের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সেদিন নিজাম প্যালেসে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
আদালতে সিবিআিই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার নিজাম প্যালেস ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের।
গত বছরের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একদল নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের অর্থ গ্রহণের এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ ফাঁস করে দিল্লির নারদ নিউজ ডটকম নামের একটি ওয়েব পোর্টাল।
নিউজ পোর্টালটি দাবি করে , তাদের হাতে রয়েছে এ-সংক্রান্ত ৫২ ঘণ্টার ফুটেজ। ১৪ মার্চ সেই ভিডিওটি কলকাতার রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে ফাঁস করে বিজেপিও।
ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-মন্ত্রীদের ঘরে ঘরে, হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে টাকা। এই স্টিং অপারেশনে যাদের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ এসেছিল, তারা হলেন মুকুল রায় (সাবেক রেলমন্ত্রী-২০ লাখ টাকা), সুব্রত মুখোপাধ্যায় (পঞ্চায়েতমন্ত্রী-৫ লাখ), সুলতান আহমেদ (তৃণমূল সাংসদ-৫ লাখ), সৌগত রায় (তৃণমূল সাংসদ-৫ লাখ), শুভেন্দু অধিকারী (তৃণমূল সাংসদ-৫ লাখ), কাকলি ঘোষ দস্তিদার (তৃণমূল সাংসদ-৫ লাখ), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল সাংসদ-৫ লাখ), শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (কলকাতার মেয়র-৪ লাখ), মদন মিত্র (সাবেক পরিবহনমন্ত্রী-৫ লাখ), ইকবাল আহমেদ (তৃণমূল সাংসদ-৫ লাখ), ফিরহাদ হাকিম (পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী-৫ লাখ) এবং মোহাম্মদ আহমেদ মির্জা (জেষ্ঠ্য পুলিশ কর্মকর্তা-৫ লাখ টাকা)।
নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন—মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিজেপির ‘হেভিওয়েট’নেতা। মুকুল রায় বর্তমানে সর্বভারতীয় বিজেপির সহসভাপতি এবং শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা।
তবে দু’জনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনী ব্যবস্থা নেয়নি সিবিআই। এদের বিরুদ্ধে আদৌ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া তবে কী না, সে ব্যাপারেও কিছু বলতে অপারগতা জানিয়েছেন সিবিআই কর্মকর্তারা।
বিজনেস নিউজ/এসকে