August 26, 2026, 11:09 am
দেশের জ্বালানি খাতে একটি ভালো ও স্থিতিশীল অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, গ্যাসের সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাস কার্গো সরবরাহে কিছুটা সমস্যা থাকলেও তা দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণের চলমান সংকট নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন, তবে এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সৌভাগ্যবশত, ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সময়ের মতো বড় ধরনের সংকটও ছিল না। বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভালো অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এ সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও খারাপ থাকবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় দেশ থাকবে না।
সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো আগ্রহী ও মনোযোগী প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আগে পেয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের সড়ক-মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বাড়ায় এগুলো নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, খুব দ্রুত এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। কোন এলাকায় এবং কতটুকু এসব যান চলাচল করতে পারবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা কেমন হবে—এসব বিষয় নীতিমালায় নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে দ্রুত একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এ দিকে নীতিমালায় অটোরিকশার চলাচলের এলাকা ও সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি যানবাহনের মান, কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে চলাচল শুরু করেছে। এতে মানুষের চলাচলে কিছু সুবিধা তৈরি হলেও এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অসুবিধাও দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ সময় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচিতে সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.