September 2, 2026, 10:56 pm

রাতভর তল্লাশি চললেও সকাল হতেই রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা

রাতভর তল্লাশি চললেও সকাল হতেই রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে টানা বিক্ষোভের অংশ হিসেবে আবারও রাস্তায় নেমে এসেছেন মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ধরতে বাড়িতে বাড়িতে রাতভর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান সত্ত্বেও রোববার (৭ মার্চ) সকাল থেকেই আবারও তারা দেশজুড়ে আন্দোলনে নামেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শান অঞ্চলের লাশিও শহরে অভ্যুত্থানবিরোথী বিক্ষোভে জড়ো হওয়া মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও বিকট শব্দ উৎপন্নকারী স্টান গ্রেনেড ছুঁড়তে দেখা যায়।

এছাড়া মন্দিরের জন্য বিখ্যাত ঐতিহাসিক বাগান শহরে বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তবে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কী পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়েছে নাকি সরসারি প্রাণঘাতী তাজা গুলিবর্ষণ করেছে- সেটা নিশ্চিত হতে পারেনি বার্তাসংস্থাটি।

রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরও অর্ধডজন শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছে। এতে দেশটির হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন।

এদিকে একটি ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতসপ্তাহে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারীদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেছে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের আন্দোলনকারীরা।

এর আগে শনিবারও মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ হয়। ইয়াঙ্গুনের সানচাং এলাকায় একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে সেখানে কোনো বিক্ষোভকারীর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জনায় রয়টার্স।

মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাউইতে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ‘গণতন্ত্রণই আমাদের উদ্দেশ্য’, ‘বিপ্লব অবশ্যই জয়ী হবে’ বলে শ্লোগান দেন। বিক্ষোভকারী এক নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিপ্লবের যে স্পন্দন শুরু হয়েছে তা হারাতে দিতে পারি না আমরা। যারা সাহস করে লড়াই করে তারাই জয়ী হয়। আমরা জয়ী হবো।’

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করছে, সংযতভাবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে তারা। তবে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয় এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন সেনাবাহিনী সরকারকে হটিয়ে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে গ্রেফতার করে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে অচলাবস্থার সূচনা হয়। প্রাত্যহিক বিক্ষোভ ও অবরোধের কর্মসূচির কারণে ব্যবসায়িক পরিবেশ রুদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অচল হয়ে গেছে দেশটির দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকারের হাতে অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে গত বুধবারই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় ৩৮ জন বিক্ষোভকারী। এরপরও বিক্ষোভকারীরা প্রতিদিনেই রাস্তায় নামছেন এবং গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির মুক্তিসহ গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: রযটার্স

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com