April 30, 2026, 11:52 pm

করোনায় বন্ধ জাহাজ রপ্তানি, আট মাসে হয়নি একটিও

করোনায় বন্ধ জাহাজ রপ্তানি, আট মাসে হয়নি একটিও

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে আশা জাগিয়েছিল যে জাহাজ রপ্তানি, তা তছনছ করে দিয়েছে মহামারী করোনাভাইরাস। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ এক কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছিল। বিশ্ব বাজারে সম্ভাবনা থাকায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে এক কোটি ৮০ লাখ ডলার ধরা হয়। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে এক টাকার জাহাজও রপ্তানি হয়নি। শুধু তাই নয়, মার্চে মহামারী শুরুর পর আট মাসেও কোনো রপ্তানি হয়নি।

দেশের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা ও রপ্তানিকারক ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, সব শেষ…। গত আট মাসে কোনো জাহাজ রপ্তানি করতে পারিনি আমরা। শুধু আমরা নয়, কেউই কোনো জাহাজ রপ্তানি করেনি। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে এসেছিল যে জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কোভিড-১৯ তা একেবারে তছনছ করে দিয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিচ্ছে বিশ্বের উপকূলীয় দেশগুলো। সমুদ্র থেকে মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণ, সামুদ্রিক নবায়নযোগ্য শক্তি, সামুদ্রিক পর্যটন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও গবেষণা ঘিরে বাড়ছে এসব কর্মকাণ্ড। সমুদ্র অর্থনীতির এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দরকার উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষায়িত ছোট-বড় জাহাজ।

পণ্যবাহী জাহাজ রপ্তানির বাজারের মতো উত্থান-পতন নেই উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষায়িত জাহাজের রপ্তানির বাজারে। তাই সম্ভাবনাময় এই রপ্তানির বাজার ঘিরেই আগ্রহ বেড়েছিল বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর।

সরকারও এ খাতের রপ্তানি বাড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা, কর ছাড়সহ নানা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ব্যাংকগুলোও মোটা অংকের অর্থায়ন করেছে এই খাতে। একটি নীতিমালা তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খসড়া নীতিমালায় জাহাজ রপ্তানি থেকে বছরে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

এক যুগ আগে ২০০৭ সালে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ রপ্তানির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জাহাজ রপ্তানি খাতের যাত্রা শুরু হয়েছিল। জার্মানিতে জাহাজ রপ্তানির ফলে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন একটা বার্তা যায় যে, দেশটি বিশেষায়িত এই শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেছে। এতে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ২০১০ সালে ইউরো জোনের মন্দার কারণে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি। কারণ সমুদ্রগামী জাহাজের ৭০ ভাগের মালিকানা ইউরোপের দেশগুলোর। ওই সময়ে ইউরোপের ব্যাংকগুলো জাহাজ কেনায় অর্থায়ন বন্ধ রাখে। জাহাজ ভাড়াও ৭৫ শতাংশ কমে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com