May 9, 2026, 11:10 am

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ইবিএল এমডি আলী রেজা ইফতেখারের বিরুদ্ধে

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ইবিএল এমডি আলী রেজা ইফতেখারের বিরুদ্ধে

দেশের রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে করপোরেট খাতেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের নানা অভিযোগ সামনে আসছে। এমনই এক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখারের বিরুদ্ধে নারী কর্মীদের প্রতি হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর দীর্ঘদিনের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকের ভেতরের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার অভিযোগ, প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আলী রেজা ইফতেখার প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাব তৈরি করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘতম মেয়াদের একটি বলে মনে করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে থাকার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

ব্যাংকের ভেতরে কর্মপরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, নারী কর্মীদের মধ্যে যাদেরকে আকর্ষণীয় মনে হতো, তাদের বিভিন্নভাবে টার্গেট করা হতো। পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পোস্টিং কিংবা বিদেশ সফরের সুযোগ—এসবকে অনেক সময় চাপ বা প্রলোভনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে মেধাবী নারী ব্যাংকার তামান্না কাদিরের মৃত্যুর ঘটনাও। তার সহকর্মী ও সাবেক সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মদক্ষতার কারণে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে ‘প্রায়োরিটি ব্যাংকিং’ বিভাগে পোস্টিং দেওয়া হয়।

ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, ওই বিভাগে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। পরে একটি অফিসিয়াল সফরের মাধ্যমে তাকে বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মে মাসে ব্যাংকের কনজিউমার লিডারশিপ টিমের একটি বৈঠক নেপালে আয়োজন করা হয়। সাধারণত এই ধরনের সভা দেশে হলেও সে বছর বিদেশে আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, ওই সফরের অংশ হিসেবেই তামান্না কাদিরকে নেপালে নেওয়া হয়।

তামান্নার সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সফরে গিয়ে তিনি এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হন যা তাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। তাদের দাবি, সেখানে রাতের বেলায় কক্ষে ডাকাডাকি, মদ্যপ অবস্থায় অনৈতিক আচরণ এবং ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিতপূর্ণ আবদারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

তবে তামান্না কাদির এসব আচরণ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন। এরপর তিনি ভবিষ্যতে বিদেশে অনুষ্ঠিত এ ধরনের কোনো সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তও জানান।

সহকর্মীদের অভিযোগ, এই ঘটনার পর থেকেই তার ওপর বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হতে থাকে এবং কর্মক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।

ব্যাংকের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায় থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিশেষ করে চেয়ারম্যানের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ ও আলোচনা আরও বেড়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি সংস্থা প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার ও চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হলে সুশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারী কর্মীদের প্রতি কোনো ধরনের হয়রানি হলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা—করপোরেট সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

সূত্র: দ্যা এশিয়াগ্রাম

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com