April 30, 2026, 2:19 am
মালিকানা দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর সদস্য অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির স্টক-ব্রোকার এবং স্টক ডিলার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বাতিল করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডিএসইকে চিঠি দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মাদ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ডিএসইকেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডিএসইর দায়িত্বে থাকা একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা বলেন, গত মঙ্গলবার আমাদের কাছে লাইসেন্স বাতিলের চিঠি কমিশন পাঠিয়েছে।
মালিকানা দ্বন্দ্বের কারণে ব্রোকারেজ হাউজটির লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও নতুন করে কোম্পানির বিভিন্ন অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে কমিশন। এর প্রেক্ষিতে লাইসেন্স বাতিল করেছে বিএসইসি।
তবে এ ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারীরা অন্য হাউজের লিংক একাউন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারবে। সিকিউরিটিজের লাইসেন্স বাতিলের কারণে বিনিয়োগকারীদের কোন সমস্যা হবে না।
বিএসইসি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠানটি তার পরিচালক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নানা ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর সকল বিনিয়োগকারী এবং ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) ধারক প্রতিষ্ঠানকে অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে তাদের বৈধ দাবি মীমাংসা করতে বলেছে।
কিন্তু এ নির্দেশনা পালন না করায় গত ২১ মে ২০১৯ কমিশন প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স স্থগিত করে।
তদন্তে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভারসাম্য না থাকা সত্ত্বেও নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা তাদের বেনিফিশিয়ারি অ্যাকাউন্টগুলো (বিও) থেকে অর্থ উত্তোলন করতো এবং ঋণ সমন্বয় করতো।
প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম লঙ্ঘন করে বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে এবং একটি ফিক্সড ডিপোজিট করেছে। এছাড়া তদন্তের সময় তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেনি বলে বিএসইসি অভিযোগ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাধব চন্দ্র দাশের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।