May 25, 2026, 11:57 am
রাজনৈতিক পালাবদলের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ আজ ছাড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় এবং ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ডলার ক্রয়ের কারণে রিজার্ভে এই উত্থান দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকার ফলে রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি ডলার, আর ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে পাঠানো হয়েছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান সরকারের আগে গত তিন অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২১-২২ সালে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ সালে ১৩.৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ সালে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি হয়। কিন্তু কেনা হয় মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রফতানি ও প্রবাসী আয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডলারের সরবরাহ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে বাজারে ডলার স্থিতিশীল রাখতে নিজ উদ্যোগে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৪.৯০ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রবাসী আয় বাড়ায় ডলারের মূল্য হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমছে এবং মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ইএটি