May 20, 2026, 4:26 am
একদিকে রাজস্ব আদায়ে গতি মন্থরতা, অন্যদিকে বড় লক্ষ্যমাত্রা-সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র বলছে, এ ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।
এনবিআরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ আগের বছরগুলোতে মাসভিত্তিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ।
অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলেও শেষ দিকে এসে তা কমে যায়। এর প্রভাব পড়েছে গত ১০ মাসের সার্বিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতেও।
এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ এপ্রিল মাসে আমদানি শুল্ক ও আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ থাকলেও ভ্যাট আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে।
এনবিআরের আদায়কৃত ভ্যাটের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে এডিপি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি খাতের উৎসে কর আদায় কমে যাওয়ায় ভ্যাট আদায়ও কমেছে।
সরকার আগামী অর্থবছরে এনবিআর ও নন-এনবিআর মিলিয়ে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।
সিপিডির এক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলন করা হচ্ছে, সে বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে প্রায় ৪২ শতাংশ।
এসআর
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.