July 12, 2026, 1:21 am
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিফলন ঘটাতে সরকার গঠনের পর থেকেই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং রাষ্ট্রকে নতুন ধারায় এগিয়ে নিতে সংসদই হবে প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যকে শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নির্ধারিত নেই। এ কারণে ওই ধরনের কোনো প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। “আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এখানে এসেছি। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনা হবে পুরোপুরি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে,” বলেন তিনি।
শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) ধারা উল্লেখ করে বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে অপারগ বা অনুপস্থিত থাকলে তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। সেটিও সম্ভব না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে শপথ পাঠ করাবেন। সেই বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়িয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শপথের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। উপস্থিত সব সংসদ সদস্য ওই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান তিনি।
সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান দুটি নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। নির্দেশ দুটি হলো—কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সরকারি কোনো প্লট নেবেন না। তিনি বলেন, “আজ থেকে পরিবর্তনের শুরু। সংসদ সদস্য হলেই কেউ বিশেষ সুবিধাভোগী হবেন—এ ধারণা বদলাতে হবে।
ইএটি