May 25, 2026, 5:21 pm

অবশেষে ২৭ দিন পর মারা গেল টেকনাফের সেই গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা

অবশেষে ২৭ দিন পর মারা গেল টেকনাফের সেই গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনান (১২) দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হুজাইফার চাচা শওকত আলী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে চিকিৎসকরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি সবার কাছে তার ভাতিজির জন্য দোয়া কামনা করেন।

ঢাকা জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু জানান, চিকিৎসার এক পর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে সে নিজে নিজে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারলেও পরবর্তীতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

তিনি আরও জানান, অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার হুজাইফাকে আবার মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে তার রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কার্যকর না হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দেখা দেয়। সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে সে শকে চলে যায় এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ওষুধেও সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা আফনান। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি বিকেলে মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঝুঁকি বিবেচনায় মস্তিষ্কে প্রবেশ করা গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি, তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। মংডু টাউনশিপসংলগ্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনী হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতেও, যেখানে ওপারের গোলাগুলিতে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com