July 12, 2026, 1:17 am
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে আর কোনো ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলে থাকতে হবে না।” তিনি বলেন, অতীতে সীমান্তে আমাদের দেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি ফেলানির বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে ফেলানির বাবা-মায়ের চোখে পানি নয়, রক্ত দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের প্রতিবেশীরা বন্ধু থাকবে, কিন্তু আমরা কোথাও কাউকে প্রভু মানব না। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না।”
জনসভায় জামায়াতের আমির কুড়িগ্রাম জেলার নদীভাঙন প্রসঙ্গে বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো এখানকার তিনটি প্রধান নদী। বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়—কখন কার বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়, সেই চিন্তায় দিন কাটে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি দিনের পর দিন নদীগুলোকে হত্যা করেছে। নদীভাঙন রোধের নামে বরাদ্দকৃত বাজেট লুটপাট করে নদীগুলোকে কঙ্কালে পরিণত করা হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এসব দুর্নীতিবাজের কাছ থেকে লুট করা অর্থ উদ্ধার করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।” তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তিস্তাপারের উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কেউ বেকার থাকবে না।
নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে মায়েরা বৈষম্য ও অসম্মানের শিকার হচ্ছেন। সমান কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা কম মজুরি পান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থল পর্যন্ত নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। এটিকে মায়েদের প্রতি জামায়াতের প্রথম ওয়াদা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আবরার ফাহাদ প্রথম শহীদ হয়েছেন। তার পথ ধরে আবু সাঈদ ও মুগ্ধ শহীদ হন। সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদিসহ প্রায় এক হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই শহীদদের আত্মত্যাগ আজ জাতির ঘাড়ে দায় হয়ে আছে। তিনি বলেন, “আমরা এই শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা লড়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।”
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান জামায়াতে ইসলামীর আমির। পরে কঠোর নিরাপত্তায় গাড়িবহর নিয়ে তিনি জনসভাস্থলে যান।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।