July 26, 2026, 9:05 pm

ডাক্তার পরিচয়ে ১৪ বিয়ে, অবশেষে পুলিশের জালে

ডাক্তার পরিচয়ে ১৪ বিয়ে, অবশেষে পুলিশের জালে

ভারতের ৭ রাজ্যে ১৪ নারীকে বিয়ে ও তাদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার ওডিশা রাজ্যের ভুবনেশ্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আনন্দবাজার জানায়, ৪৮ বছরে দিল্লি, পঞ্জাব, অসম, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশাসহ ৭ রাজ্যে ১৪টি বিয়ে করে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বছর ষাটের প্রৌঢ়া বিধুপ্রকাশ সোয়েন। সোমবার তাকে ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তার শিকারের তালিকায় ছিলেন আইনজীবী, চিকিৎসক, নার্স, আধাসেনায় কর্মরত নারী, এমনকি বেশ কয়েক জন উচ্চশিক্ষিত নারীও।

অভিযুক্ত বিধুপ্রকাশ সোয়েন ভারতের ওড়িশার কেন্দ্রাপড়ার পাতকুড়া থানার বাসিন্দা। বিয়ে সম্পর্কিত ওয়েরবসাইটগুলোতে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে নারীদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন। শিকার হিসেবে বেছে নিতেন মূলত মাঝবয়সী অবিবাহিত নারী, ডিভোর্সিদের। এভাবে একে একে তার শিকারের ফাঁদে ফেলেন নারী চিকিৎসক, আধাসেনায় কর্মরত নারী, আইনজীবী এমনকি উচ্চশিক্ষিত নারীদেরও।

অভিযুক্তের প্রথম শিকার ১৯৮২ সালে। ওই বছ এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ে করেন ২০০২ সালে। ভুবনেশ্বরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ঊমাশঙ্কর দাশ জানিয়েছেন, প্রথম এবং দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীর মোট ৫ সন্তান। ২০০২ থেকে ২০২০ এর মধ্যে বিয়ে সম্পর্কিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নারীদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করার পর বিয়ে করতেন। এবং ঘটনাচক্রে, যত জনকে তিনি বিয়ে করছেন, কেউই তার আগের বিয়ে সম্পর্কে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, বিয়ে করাই তার মূল উদ্দেশ্য ছিল না। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাকরিজীবী নারীদের বিয়ে করে তাদের টাকাপয়সা আত্মসাৎ করা। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বিয়ের পর স্ত্রীদের টাকা হাতিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছেন।

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। পুলিশ জানায়, গত জুলাইয়ে এক শিক্ষিকা ভুবনেশ্বরে অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, এক ব্যক্তি তাকে ২০১৮ সালে দিল্লিতে বিয়ে করে ভুবনেশ্বরে নিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তি বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছেন এমনও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। শিক্ষিকার অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। সোমবারই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

অভিযুক্তের কাছ থেকে ১১টি এটিএম কার্ড, চারটি আধার কার্ড এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানান, এর আগে যুবকদের চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে হায়দরাবাদে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com