August 31, 2026, 9:55 pm
বাবা ভ্যানচালক। সেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছেলেকে মানুষ করেছেন বাবা আব্দুল জব্বার। পড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর এসব দেখেছেন ছেলে এসআই হাসান আলী। তার স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। তিনি দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলেন- ভ্যানচালকের ছেলে হয়েও বিসিএস ক্যাডার হওয়া যায়।
কিন্তু সে স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ করতে পারেননি এসআই হাসান। নিজের পিস্তলের গুলিতে সব স্বপ্নকে বলি দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন তিনি। তবে তার আত্মহত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি।
পাবনার আতাইকুলা থানার ছাদ থেকে এসআই হাসান আলীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয় রোববার সকালে। পুলিশের দাবি হাসান আলী আত্মহত্যা করেছেন। তবে হাসানের পরিবারের দাবি- তার মৃত্যুর জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়ী।
হাসান আলীর বাবা আব্দুল জব্বারের দাবি, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাকে ছাড়পত্র দেননি। এ কারণে তাকে লাশ হতে হলো। এজন্য থানার ওসিই দায়ী।
পাবনার আতাইকুলা থানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত এসআই হাসান আলীর বাড়ি কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তার পিতা আব্দুল জব্বার পেশায় রিকশাভ্যানচালক। অনেক কষ্টে ছেলেকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। দুই বছর আগে হাসান আলী পুলিশের এসআই পদে নিয়োগ পান। তার পিতা এখনও রিকশাভ্যান চালান।
সোমবার ভোর রাতে হাসান আলীর লাশ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের লোকসহ এলাকার সব ধর্ম বর্ণের মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সোমবার হাসানের লাশ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এসআই হাসানের মাতা-পিতা দাবি করেছেন তাদের সন্তানকে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার ছুটি মঞ্জুর করলেও ওসি তাকে ছাড়পত্র দেয়নি। যে কারণে তাদের সন্তানের লাশ পেতে হলো। এজন্য উক্ত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়ী।
আতাইকুলা থানার ওসি কামরুল ইসলাম সরাসরি এ ঘটনা অস্বীকার করেন। তার ভাষায়, এসআই হাসান আলী বিসিএস পরীক্ষা দেবেন একথা তিনি জানতেন না। তার ছুটি মঞ্জুর হলেও তিনি ছুটিতে যাননি।
কোনো কোনো মিডিয়ায় প্রেম সংক্রান্ত ঘটনায় এসআই হাসান আলীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও ওসি সে ঘটনা অস্বীকার করেন তার বাবা।
এলাকার রুপালী দাস বলেন, তাদের সামনে হাসান আলী বড় হয়েছেন। কখনো কারো সঙ্গে সামান্য ঝগড়া হয়নি।
প্রতিবেশী আব্দুল গফুর বলেন, হাসান আলী বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেখাতে চেয়েছিল রিকশাভ্যান চালকের ছেলে বিসিএস ক্যাডার হতে পারে। আজ এসব কেবল স্বপ্ন। তার পিতা চেয়েছিলেন মাটির দেয়ালের ঘরে বড় হয়েও তার সন্তান দেশের সেবা করবে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ভাবে।