June 9, 2026, 3:14 am
নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঝড়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো রাশিয়াও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এর পরও লকডাউন ফিরিয়ে আনার পথে হাঁটেনি ক্রেমলিন। মূলত অর্থনীতিকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। নিজেদের এ সিদ্ধান্তের ফলে মস্কো নিশ্চিতভাবেই ভাইরাস সংক্রমণের বৃদ্ধি দেখেছে। কিন্তু তাতেও দেশের অর্থনৈতিক পতন ঠেকাতে পারেনি তারা। খবর এএফপি।
গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এটা বেশ গুরুত্বর ব্যাপার। বেকারত্ব বাড়ছে, আয় কমছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ব্যাপকভাবে বাড়ছে।
পুতিন যে বিস্তৃতির কথা বলেছেন, তা একেবারেই বাস্তব। জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মাঝে দেশটিতে চিনির মূল্য বেড়ছে ৭০ শতাংশ। সূর্যমুখী তেলের দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ এবং পাস্তার দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ।
মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার কয়েক মাস পর প্রভাবগুলোকে আরো ত্বরান্বিত করেছে মহামারী। এ অবস্থায় পুতিন মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন, দাম কমানোর জন্য দ্রুত যেন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে তিনি দাম বাড়ার এ পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন।
অর্থনীতির সঙ্গে সামাজিক অসন্তুষ্টিও পুতিনের দুই দশকের রাজত্বে একটি দুর্বল দিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন ছুটির দিনের প্রেক্ষাপটে এ ব্যবস্থা কার্যকর বলে প্রমাণিত হতে পারে।
এফবিকে গ্রান্ট থর্টন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইগর নিকোলায়েভ বলেন, অর্থ ভীতিজনক ব্যাপার হয়ে উঠছে। জীবন আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পুতিনের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক কৌশল বলেও মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধান খাদ্যদ্রব্যগুলোর দাম বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। এটি কেবল রাশিয়ার জন্য সমস্যার এমন নয়।
এদিকে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বেকারত্বও বাড়ছে লাফিয়ে। মার্চের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে সেটি অক্টোবরে বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে। রাশিয়ার সাধারণ মানুষ যখন বেকারত্ব নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন নিষ্পত্তিযোগ্য আয় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে গিয়ে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পতিত হয়েছিল।
বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গিয়েও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকের সঙ্গে তুলনায় ১৩ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অক্টোবর পর্যন্ত দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে এমন লোকসংখ্যা দুই কোটির কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে।
বিজনেস নিউজ/এসআর