May 2, 2026, 10:20 am

২০ কোম্পানিতে ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন পরিচালনা পর্ষদ

২০ কোম্পানিতে ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন পরিচালনা পর্ষদ

সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করা কোম্পানিগুলোতে আগামী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ রোবাবার (১৩ ডিসেম্বর)পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বিষয়টি বিজনেস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

বর্তমানে ২৯টি কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই। এর মধ্যে ৯টি কোম্পানিতে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ হতে কিছু শেয়ার বাকি আছে। তারা সময়ে চেয়ে আবেদন করেছে। নির্ধারিত অল্প সময়ের মধ্যে তারা কোটা পূরণ করবে। আর বাকি ২০টি কোস্পানির শেয়ার ধারণ করতে অন্তত ৩-২৯ শতাংশ শেয়ার কিনতে হবে। ফলে এই ২০ কোম্পানিতে আগামী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড পুনঃগঠনের নির্দশনা দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিগুলো হলো- ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, নর্দান জুট, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ফার্মা এইড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, স্যালভো কেমিক্যালস, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, কে অ্যান্ড কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যাল, অগ্নি সিস্টেম, আলহাজ্ব টেক্সটাইল, অ্যাপোলো ইস্পাত, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল, ফ্যামিলিটেক্স, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফু-ওয়াং সিরামিকস, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন এবং ইমাম বাটন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির পর্ষদ কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত ২ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেবে। যারা ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়টি তদারকি করবেন এবং পর্ষদে ১ মেয়াদের জন্য থাকবেন। আর তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করবে। এছাড়া অতিরিক্ত নিয়োগকৃত স্বতন্ত্র পরিচালকেরা প্রতি প্রান্তিক শেষ হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এ জাতীয় কোম্পানিগুলো কমিশনের নির্দেশনা জারির পরবর্তী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইব্রিড সিস্টেমে (স্বশরীর বা ডিজিটাল) সাধারণ মিটিং (এজিএম বা ইজিএম) আয়োজন করবে।

নতুন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের জন্য সিডিবিএলের পর্ষদ ৩ সদস্যের ১টি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ গঠন করা ওই কমিশন শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ মিটিংয়ে নির্বাচনের জন্য সিডিউল ঘোষণা করবে।

সিডিবিএল ওই নির্বাচনের জন্য কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করা যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রদান করবে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। ওই তালিকার মধ্য থেকে কোম্পানির পর্ষদ পরিচালক পদে নির্বাচনের জন্য যোগ্য প্রার্থী সুপারিশ করবে।

তবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যদি কোম্পানির পর্ষদ না থাকে বা বিদ্যমান পর্ষদের কোন সুপারিশ না থাকে, তাহলে সিডিবিএলের সরবরাহ করা তালিকাই পরিচালক পদে নির্বাচনের জন্য সুপারিশকৃত যোগ্য প্রার্থী হবে। এই নির্বাচনের জন্য সিডিবিএল শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অনলাইন-ইভোটিং প্লাটফর্ম বা সিস্টেম সরবরাহ করবে। এছাড়া সিডিবিএলের সঙ্গে কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।

অনলাইন/ইভোটিং প্লাটফর্ম বা সিস্টেমে শেয়ারহোল্ডারদেরকে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলে কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে। সেটা পরিচালক নিয়োগ বা সাধারণ মিটিংয়ে যেকোন প্রস্তাবিত রেজুলেশেনের জন্য।

এছাড়া নিশ্চিত করতে হবে- শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে সাধারণ মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ভোটদানের জন্য কোম্পানি হার্ড বা সফট প্রক্সি ফর্ম পাঠানো, সাধারণ মিটিং চলাকালীন পর্যন্ত ভোট প্রদান সিস্টেম, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল সিডিবিএল দ্ধারা প্রমাণিত বা সত্যায়িত হতে হবে, অনুমোদনের জন্য মিটিং শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে অবহিত করতে হবে।

স্টক এক্সচেঞ্জ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কর্মকর্তা (সর্বনিম্ন সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক পদধারী) নিয়োগ দিতে পারবে, নির্বাচন কমিশন যেকোন সমস্যা বা বিতর্কের সমাধান করবে এবং বিএসইসি নির্বাচন কমিশনের যেকোন সিদ্ধান্ত আপিলের দায়িত্ব পালন করতে পারবে। সবশেষে বিএসইসির সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

বিজনেস নিউজ/এমআরএম

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com