April 19, 2026, 4:53 am

করোনার ধাক্কায় লভ্যাংশ দেয়নি ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ কোম্পানি

করোনার ধাক্কায় লভ্যাংশ দেয়নি ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ কোম্পানি

সারা বিশ্বের সব খাতেই আঘাত হেনেছে মহামারি কভিড-১৯। এটির কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সব খাত। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সব খাতেই এর ধাক্কা লেগেছে। বাদ যায়নি পুঁজিবাজারও। ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিরও। বছর শেষে এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। করোনা ইস্যুতে এ বছর লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ৩১ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে মুনাফায় রয়েছে এমন কোম্পানির রয়েছে তিনটি। মুনাফা করেও লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস, গোল্ডেন হার্ভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন।

এ তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেঙ্গল উইন্ডসর ২০১৩ সালে আইপিওতে প্রতিটি শেয়ার ২৫ টাকা করে ইস্যু করে। এতে প্রতিটি শেয়ারে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ১৫ টাকা। কোম্পানিটির আইপিও-পূর্ব ২০১১-১২ আর্থিক বছরের ৩.৫১ টাকার শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) সর্বশেষ ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে নেমে এসেছে ০.১২ টাকায়। একইভাবে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে শেয়ারপ্রতি ০.১ টাকা মুনাফায় থাকলেও তারা লভ্যাংশ দেয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন করে গোল্ডেন হার্ভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এই কোম্পানিটি ২০১৩ সালে ১৫ টাকা প্রিমিয়াসহ প্রতিটি ২৫ টাকা মূল্যে ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এই কোম্পানিটিও মুনাফায় থেকে লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

এই তিন প্রতিষ্ঠান ছাড়া যেসব কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি, সে কোম্পানিগুলো হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, শ্যামপুর সুগার, জিল বাংলা সুগার, জুট স্পিনার্স, জেমিনি সি ফুড, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, রেনইউক যজ্ঞেশ্বর, সেন্ট্রাল ফার্মা, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, বেক্সিমকো সিনথেটিক, উসমানিয়া গ্লাস, আরামিট সিমেন্ট, জাহিন টেক্স, সাফকো স্পিনিং, তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, মালেক স্পিনিং, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, দুলামিয়া কটন, আর এন স্পিনিং, সায়হাম কটন, মেঘনা পিইটি, অলিম্পিক এক্সেসরিজ ও ফ্যামিলি টেক্স।

এদিকে যেসব কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়নি, তারা সবাই করোনাকে দায়ী করেছেন। এই ইস্যুতে তাদের ব্যবসা মন্দ গেছে বলে জানান তারা।

জানতে চাইলে জাহিন টেক্সের কোম্পানি সচিব মো. লিয়াকত আলী বলেন, করোনার ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে বস্ত্র খাতে। ফলে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। করোনায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসা থমকে গেছে। তাছাড়া করোনার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। আমরা সীমিত আকারে প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে সক্ষম হয়েছি। শ্রমিকসংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু তারপর ব্যবসায় অনেক পিছিয়ে গেছি, যে কারণে লভ্যাংশ দিতে পারিনি। আশা করছি আগামীতে কোম্পানি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তখন আমরা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ভালো কিছু ভাবতে পারব।

তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের অভিমত করোনাকে সামনে রেখে অনেক কোম্পানি সুযোগ নিয়েছে। তারা করোনা ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

তাদের মতে, এর আগে নিয়মিত মুনাফার একাংশ দিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে, তাহলে এখন বিনিয়োগকারীদের দুরবস্থার সময় রিজার্ভ থেকে লভ্যাংশ দিতে পারবে না কেন। করোনায় শুধু কোম্পানির ব্যবসা নয়, বিনিয়োগকারীদের অবস্থাও শোচনীয়। এই দিকটাও কোম্পানিগুলোর পর্ষদের ভাবা দরকার ছিল।

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেক কোম্পানি এ বছর লভ্যাংশ দেয়নি। আবার অনেকে নামমাত্র লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে। কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগকারীদের কথা ভাবা দরকার ছিল।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ দেয় না, এমন সব কোম্পানিতেও এ বছর কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগে লোকসান করেছে শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার মিলস ও জুট স্পিনার্স, এই ইস্যুতে এ বছরও তারা বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com