April 19, 2026, 3:12 pm

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা পরিবর্তনের হওয়া বিশ্ব পুঁজিবাজারে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা পরিবর্তনের হওয়া বিশ্ব পুঁজিবাজারে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো টানা দু’দিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

বিশেষ করে ফিউচার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজার হল সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। বিশ্বে যে কোনো বড় পরিবর্তনেই এখানে প্রভাব পড়ে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা পরিবর্তন বিশ্বের জন্য বার্তা। স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর প্রভাব পড়বে।

জানা গেছে, মার্কিন নির্বাচনে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ট ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে মোটামুটি জয়ের বিষয়টি আগে পরিস্কার হয়েছিল।

আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আগামী জানুয়ারিতে চার বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেবেন তিনি।

আর এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলে আসে। দুইদিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারের সূচকগুলো বেড়েছে।

শুক্রবার এশিয়ান ডাউ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৪৮৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ পয়েন্ট উন্নীত হয়েছে।

হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক বেড়েছে প্রায় দশমিক ১০ শতাংশ, সেনসেক্স সূচক বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।

লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বা এফটিএসই ১০০ সূচক বেড়েছে দশমিক ০৮ শতাংশ। বেড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক সূচক এবং গ্লোবাল ডাও জোনস সূচক।

বুধবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সূচক ব্যাপক বাড়তে দেখা যায়। ওইদিন ডাও জোনস সূচক ৩৬৮ পয়েন্ট বেড়েছে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ, নাসডাক বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোয় বড় প্রভাব পড়েছে। উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এস অ্যান্ড পি ফিউচার, নাসডাক ফিউচার সূচক। সোনা ও রুপা ফিউচার সূচক বেড়েছে।

সাধারণত মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল পেতে দেরি হলে তা শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের এই বিলম্বে আরও উৎসাহ পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা, যার ইতিবাচক প্রভাবই পড়ছে শেয়ারবাজারে।

প্রযুক্তি ও পুঁজি দুই দিক থেকেই সারা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ৯৯ লাখ বর্গকিলোমিটারের এ দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩৩ কোটি।

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার সাড়ে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ৫৭ হাজার ২২০ ডলার। এদিক থেকে বিশ্বে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ। এ কারণে দেশটির ক্ষমতা পরিবর্তন সারা পৃথিবীতেই বড় বার্তা দেয়।

অন্যদিকে ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা হাতে নেয়ার আগেই ট্রান্স প্যাসেফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।আর দায়িত্ব নেয়ার পর তা কার্যকরের উদ্যোগ নেন। এতে ওই সময়ে অস্থির হয়ে উঠেছিল শেয়ারবাজার।

ব্যবসা-বাণিজ্যে ট্রাম্পের কঠোর নীতি বিশ্ব পুঁজিবাজারকে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ফেলে দিয়েছিল। বিপরীতে চাঙ্গা হয়েছিল স্বর্ণের বাজার।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com