April 19, 2026, 3:14 pm
কেউ আমাদের উপর অসস্তুষ্ট হয়েছে, কেউ মনে করছে আমাদের চলে যেতে হবে। আমরা চলে গেলে চলে যাবো, কিন্তু পুঁজিবাজারে গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করবোই বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২০-এর আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, গভর্নেন্স মানে একজন বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপাত্তা ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দেওয়া। তার রিটার্ন দেওয়া, এটি করবো। এজন্য একটি গতিশীল (সেকেন্ডারি ও প্রাইমারি) পুঁজিবাজার করতে চাই।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছুর রহমান। অনুষ্ঠানে ব্রোকার হাউজের সেবা ও বিনিয়োগকারীর অধিকার বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি’ রোজারিও।
তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেকেন্ডোরি মার্কেটে বিনিয়োগ করুন সবাই মিলে চলে আসুন। সবাইকে আস্বস্ত করছি, নিরাপদ বিনিয়োগের পরিবেশ দিচ্ছি, নিরাপত্তা দিচ্ছি। আপনার টাকার রিটার্ন পাবেন।
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমাদের দায়িত্ব বাজারের অনিয়ম দূর করা। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা দেয়া। আর এই বিষয়গুলো নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পুঁজিবাজারে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পারি তাহলে বিনিয়োগকারীরা বাজার মুখী হবেন।
তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর সাথে বসেছি। কেন তারা জেডে অবস্থান করছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ জন্য প্রত্যেক কোম্পানির সাথে আলাদা করে বসা হয়েছে। এখন থেকে আমরা এই কোম্পানিগুলোকে মনিটর করছি। বেশির ভাগ কোম্পানি ভাল করছে দেখছি।
তিনি বলেন, অল্প কয়েকটি কোম্পানি দেখছি যাদের অফিস বন্ধ, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিদেশে চলে গেছে। এসব কোম্পানির বিনিয়োগের অর্থ ফিরে আনার চেষ্টা করছি।
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে গভর্নেন্স আনতে কাজ করছে কমিশন। যাতে ভালোভাবে কাজ না করা যায় সেই লক্ষ্যে খবরের কাগজ সহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে এফডিআরের বিকল্প হিসেবে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। কারণ এখানে বিনিয়োগ করে একই সাথে লাভবান হওয়া ও নিরাপদ মনে হলে বিনিয়োগকারীরা এখানে আসবে। এরবাইরে আমরা বন্ড নিয়েও কাজ করছি। বিভিন্ন ধরনের বন্ড কীভাবে বাজারে আনা যায় তার চেষ্টা করছি।
নির্ভয়ে আপনারা বাজারে আসতে পারেন। আমরা আর কিছু করতে না পারি আপনাদের পুঁজির নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবো। এবং কর্পোরেট গভর্নেন্সকে আমরা বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাই যদি আইটি প্লাটফর্মে আসে তাহলে লেনদেন আরও সহজ হয়ে যাবে।
তলানিতে থাকা পুঁজিাবাজারের অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সেই সময় আপনাদের তাদের কষ্টের কথা জেনেছি। মানুষের চাকরি চলে যাচ্ছে। আমার বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিচ্ছি। বাজার ভালো হচ্ছে- লেনদেন বাড়ছে। এখন ১ হাজার কোটি টাকার কম বেশি হচ্ছে। এটিকে ২, ৩,৪ এবং ৫ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যেতে চাই। তাতে আপনাদের মানসম্মানও বাড়বে।
ব্রোকারেজ হাউজগুলোর উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদর সঠিক সেবা দিন। বিনিয়োগকারীদের আমানত যথাযথ রাখুন। সবাই ভালো থাকুন।১-২জন মানুষের জন্য কমিনিটির সবার মানুষের সম্মান চলে না যায় সেই খেয়াল রাখুন। সব জায়গায় বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। এখন আপনারা দেশের সব জায়গায় ডিজিটাল আউট লেট গড়ে তোলুন।
করোনার মহামারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিএসইর মোবাইল অ্যাপস এবং ওএমএসসের মাধ্যম খুলে দিতে বলেছি। ডিএসইর এমডিও ডিজিটাল প্লাটফমে কাজ করতে হবে। কোভিড আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। সামনে যদি আরও বড় মহামারি আসে তাহলেও যাতে মানি মার্কেটের মতেই পুঁজিবাজারে যাতে লেনদেন চালু থাকে।