April 30, 2026, 4:33 am

সময় বাড়িয়েও বোরো সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না

সময় বাড়িয়েও বোরো সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না

সরকারিভাবে এবার সাড়ে ২১ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সময় বাড়িয়ে তার অর্ধেকও পূরণ হচ্ছে না।

সারা দেশে এবার দুই কোটি মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন হলেও সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের সঙ্গে বাজারের দামের তফাৎ থাকায় সরকারের সঙ্গে চুক্তির পরেও মিলাররা চাল না দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মিল মালিকরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর সঙ্গে বন্যার কারণে অনেক মিল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চালকল মালিকরা লস দিয়ে সরকারকে চাল সরবরাহ করতে চাচ্ছে না।

খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, চুক্তি অনুযায়ী কারা চাল দিয়েছে আর কারা দেয়নি, সংগ্রহের সময়সীমা শেষ হলে সেই তালিকা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সরকারকে চাল না দেওয়ার পেছনে বৈরি আবহাওয়াসহ মিলারদের অন্য কোনো সমস্যা ছিল কি না, সেসব বিষয় আমলে নেওয়া হবে বলে খাদ্য সচিব জানিয়েছেন।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি এবার ২৬ টাকা কেজি দরে বোরো ধান, ৩৬ টাকা কেজিতে সিদ্ধ ও আতপ চালসহ ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান-চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সরকারিভাবে বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরও দুই লাখ মেট্রিক টন বাড়িয়ে সাড়ে ২১ লাখে উন্নীত করা হয়।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে ধান এবং ৭ মে থেকে বোরো চাল সংগ্রহ শুরু হয়; গত ৩১ অগাস্ট তা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময় বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই লাখ ১৩ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন বোরো ধান, পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৮৮ হাজার ৬০৪ মেট্রিক টন আতপ চালসহ মোট আট লাখ ৮৮ হাজার ৯১৭ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়েছে; চালের আকারে যা আট লাখ ২৫ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে ১৪ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ১১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং দুই লাখ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন গম।

কেন এবার বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না, সেই প্রশ্নে খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, যাদের ধান-চাল দেওয়ার কথা ছিল তারা তা সরবরাহ না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাস্কিং মিলগুলো এবার বৃষ্টিবাদলের কারণে ধান কিনতে পারেনি, বাজারে দামও বেশি ছিল। তারা এমনিতেই মরাধরা, তাদের বিরুদ্ধে কী অ্যাকশন নেব? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই, আমরা তাদের মোটিভেশন করার চেষ্টায় আছি।

সরকারের সঙ্গে চুক্তির পরেও যেসব অটোমেটিক রাইস মিল চাল সরবরাহ করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান খাদ্য সচিব।
যারা চুক্তির পরেও চাল দেবে না তারা যাতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে কোনো সুবিধা না পায় সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে বলেছি।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com