May 2, 2026, 12:21 pm
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা বিতরণকৃত মোট মেয়াদী ঋণ/বিনিয়োগের ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের অর্জন/অগ্রগতি পরিবীক্ষণের জন্য পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের হার নির্ণয়ে বিতরণকৃত মোট মেয়াদী ঋণ/বিনিয়োগ (কর্মচারী ঋণ ব্যতীত) ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানওয়ারি এ হার অন্যূন ৫% অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে চিহ্নিত/স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব পণ্য/প্রকল্প/উদ্যোগে অর্থায়নের ক্ষেত্রে উক্ত হার বিবেচিত হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রমের অর্জন তাদের ক্যামেলস রেটিং মূল্যায়নে বিবেচিত হবে।
এছাড়া, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি, পরামর্শ প্রদান এবং ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পটেনশিয়াল সকল অফিস/শাখাসমূহে ডেডিকেটেড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট হেল্প স্থাপন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
পরিবেশ বান্ধব অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ গ্রিন ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধান কার্যালয়ের ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ইউনিট’ এর কর্মপরিধির আলোকে উক্ত হেল্প ডেস্কের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের (জানুয়ারি-মার্চ-২০) প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ করেছে দুই হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর-১৯ প্রান্তিকে এ খাতে ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছিল ৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা।
এদিকে সবুজ অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমলেও কিছুটা বেড়েছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ। মার্চ-২০ প্রান্তিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করেছে ২১৪ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর-১৯ প্রান্তিকের চেয়ে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে সবুজায়ন বিনিয়োগ ছিল ১৭০ কোটি টাকা।
২০১১ সাল থেকে পরিবেশবান্ধব সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে গ্রিন ব্যাংকিং চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন বলা হয়েছিল, মোট ঋণের ৫ শতাংশ সবুজায়নে বিতরণ করতে হবে। ২০১৬ সালে পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট ফান্ডেড লোনের ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংকই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। আলোচ্য সময়ে গ্রিন ব্যাংকিংয়ে অংশ নিয়েছে এনআরবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, দি এইচএসবিসি লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সৌদি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিন্যান্স ফান্ড লিমিটেড এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।
উল্লেখ্য, পরিবেশে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমাতে শিল্প-কারখানায় সবুজায়ন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১১ সালে। তখন থেকেই স্টিল, পেপার, পোশাক, চামড়াসহ বিভিন্ন খাতে পরিবেশবান্ধব ঋণ দিচ্ছে ব্যাংক। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।