May 25, 2026, 4:36 am
ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শান্তিচুক্তি নিয়ে সমালোচনা থেকে সরে এসে সুর নরম করছে ফিলিস্তিন।
বুধবার কায়রোয় আরব লিগের বৈঠকে ইসরায়েল-আমিরাত চুক্তি নিয়ে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিতর্ক করার কথা রয়েছে।
তার আগে ফিলিস্তিনি দূতের উপস্থাপন করা একটি খসড়া প্রস্তাবনা থেকে ফিলিস্তিনের নমনীয় অবস্থানের আভাস মিলেছে।
খসড়া প্রস্তাবনাটির অনুলিপি দেখে রয়টার্স জানিয়েছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা চুক্তি নিয়ে আমিরাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা এর নিন্দা করার কোনও আহ্বান জানানো হয়নি।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও মঙ্গলবার আরব আমিরাতের শাসকগোষ্ঠীসহ অন্যান্য আরব নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণাত্মক বিবৃতি না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করেছেন।
গত ১৩ অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইসরায়েল এবং আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছার কথা জানান।
২০ বছরের মধ্যে কোনও আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের এমন চুক্তি এটিই প্রথম। ইসরায়েলের সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশগুলো তেল আবিবের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখে।
আমিরাতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল অংশ নিজেদের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করবে বলা হয়েছে।
ওই চুক্তির পরপরই ইসরায়েল একে ‘ইতিহাস’ বলে বর্ণনা করলেও ফিলিস্তিনিরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ চুক্তিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ আখ্যা দিয়েছিল।
তারা তাৎক্ষণিকভাবে আরব প্রতিবেশী দেশ আরব আমিরাতের কড়া নিন্দা করে এবং ইউএই তে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেন আব্বাসের কর্মকর্তারা।
এবার তার ঠিক বিপরীত চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে ফিলিস্তিনের খসড়া প্রস্তাবে। এতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত একযোগে যে চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে তাতে ফিলিস্তিনিদের দাবি নিয়ে আরব দেশগুলোর ঐক্যমত্যের কোনও হানি হয়নি।”
“ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবি গোটা আরব জাতিরই দাবি।ত্রিপক্ষীয় ওই ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র পথ হিসাবে দ্বিরাষ্ট্রীক সমাধানের ভিত্তিতে আরবদের মূল লক্ষ্যেরও কোনও পরিবর্তন হয়নি।”