October 26, 2026, 6:01 pm
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বার্সেলোনা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের সঙ্গে লম্বা বৈঠক করেন লিওনেল মেসির এজেন্ট তার বাবা হোর্হে মেসি। যদিও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। বরং, বার্সেলোনার যে অবস্থান, তাতে মেসিকে ন্যু ক্যাম্পেই থেকে যেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী- স্পেনের সময় বিকেলে বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমেউ ও হোর্হে মেসির মধ্যে বৈঠকটি হয়েছে ন্য ক্যাম্পে বা্র্সেলোনার অফিসেই। বার্তোমেউয়ের সঙ্গে ছিলেন বার্সেলোনার অন্যতম পরিচালক হাভিয়ের বোর্দাস এবং হোর্হে মেসিকে সাহায্য করেন তার আরেক ছেলে মেসির ভাই ও পরামর্শক রদ্রিগো মেসি। দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই পক্ষে কোনও সমঝোতা হয়নি।
এছাড়া বৈঠক শেষে বার্সেলোনা সভাপতি জানিয়ে দিয়েছেন, মেসি বিক্রির জন্য নয়। যেকোনও পরিস্থিতিতে মেসিকে ছেড়ে দেওয়ার কোনও উদ্যোগ ক্লাব নেবে না, কারণ তিনিই বার্সেলোনার ক্রীড়া প্রকল্পের প্রধান চরিত্র এবং তিনি চুক্তিবদ্ধ। রিলিজ ক্লজ থেকে খেলোয়াড়ের বেরিয়ে যাওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে গত ১০ জুন, সুতরাং মেসি নতুন মৌসুমের জন্য চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় এবং তাকে অনুশীলনে নামতে হবে। কিন্তু তিনি এখনও অনুশীলনে যোগ দেননি।
কিন্তু মেসির পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধিরা দাবি করেন, ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে পাঠানো চিঠিতেই মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বার্সেলোনা ছাড়তে চান এবং সেটা ফ্রি ট্রান্সফার ফিতে। কারণ, তার সঙ্গে এখন ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজের শর্তযুক্ত নেই।
বার্সা দাবি করে, চুক্তি অনুযায়ী মেসির রিলিজ ক্লজের দাবি ছেড়ে দেয়ার শেষ সময় ছিল ১০ জুন। কিন্তু সেই তারিখ এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে এবং অটোমেটিক্যালি মেসির চুক্তি এক বছর বেড়ে গেছে। এখন ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত তাকে ন্যু ক্যাম্পেই থাকতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো ক্লাবে যেতে হলে ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর পুরো রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করতে হবে।
মেসির পক্ষ দাবি করে, ২০১৭ সালে বার্সার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুসারে যে কোনো মৌসুম শেষেই মেসি ফ্রি’তে বার্সেলোনা ছাড়ার অধিকার পাবেন। সেখানে রিলিজ ক্লজ কার্যকরী হওয়ার কোনো শর্ত নেই। তাছাড়া ১০ জুনের যে ডেটলাইনের কথা বলা হচ্ছে, সেটা এবার কার্যকরী হবে না। কারণ করোনা ভাইরাসের কারণে মৌসুম শেষ হতেই তো অনেক বিলম্ব হয়েছে। সুতরাং, ১০ জুনের ডেটলাইন এখানে অকার্যকর।
প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরও কেউ কারও দাবি থেকে সরে না আসার ফলে অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়েছে বার্সা সভাপতির সঙ্গে মেসির বাবা বৈঠক। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে কোনও পক্ষই এতটুকু ছাড় দিতে নারাজ। সুতরাং জটিল থেকে জটিলতর হয়ে ওঠা বিষয়টি হয়তো আদালতের দিকেই গড়াতে চলেছে।
ইংলিশ মিডিয়াগুলো দাবি করছে, বার্সেলোনার সঙ্গে যে লড়াই শুরু করেছিলেন মেসি, তাতে তিনি পরাজয় বরণ করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে উপণীত হয়েছেন। এর অর্থ, বার্সেলোনা ছেড়ে দেয়ার যে ইচ্ছা তার এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ম্যানসিটিতে যোগ দেয়ার যে চিন্তা ছিল- কোনোটাই হচ্ছে না মেসির।