April 11, 2026, 2:40 pm

সহজ শর্তে ঋণ ও ভ্যাট ছাড় চান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা

সহজ শর্তে ঋণ ও ভ্যাট ছাড় চান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা

করোনায় সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের সব শিল্প খাতেই পড়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছে। ফলে এ খাতের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অর্থায়ন পেতে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে, বিক্রিতে বড় ধরনের পতন হচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। উদ্যোক্তারা ব্যবসা থেকে বের হয়ে গেলে তাদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্ত করতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের ডাটাবেইস তৈরি করতে হবে। তাদের রিটেইন্ড আর্নিংস কম হলেও, তারাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সঠিকভাবে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। করোনার কারণে দেশের বিপণিবিতানসহ সব ধরনের মেলা আয়োজন বন্ধ থাকায় এই খাতের অবস্থা নাজুক। পাশাপাশি এ বছর পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় ক্ষুদ্র কুটির শিল্প খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বর্তমানে ৫০ শতাংশের চেয়ে বেশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানই বন্ধ। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষকে উপলক্ষ করে দেশের বড় বড় শহরের সুপারমার্কেট, শপিং মল, বিভিন্ন শহর ও গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারগুলোতে এ খাতে উত্পাদিত প্রচুর পণ্য বিক্রি হয়। উদ্যোক্তারা অধির আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন এই সময়টার জন্য। কিন্তু এ বছর এই বাজার একেবারে বন্ধ। করোনার ভয়াবহতা কবে লাঘব হবে তাও অজানা। দেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানা এবং বহু কারুপল্লী। এসব কারুপল্লীতে উত্পাদন হয়ে থাকে বিপুল পরিমাণ হস্ত, কুটির ও কারুপণ্যসামগ্রী। করোনার প্রভাবে এসব ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা এখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পোদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, করোনায় বিপর্যস্ত বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর কমানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অথচ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি ধরা হলেও উপেক্ষিতই থেকে গেছে এই খাত। স্থানীয় শিল্পে পণ্য উত্পাদনে দিতে হবে আগের মতো ১৫ শতাংশ মূসক। পণ্য বিক্রিতেও কমানো হয়নি টার্নওভার কর। করোনা মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও কম চাহিদা এবং পুঁজি আটকে পড়ায় অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ বন্ধের পথে। শিল্প খাতে বড় অবদান থাকলেও ঋণ পেতে নানা সমস্যা পোহাতে হয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পোদ্যোক্তাদের। দেশে এক লাখ ২৫ হাজার ক্ষুদ্র ও সাড়ে আট লাখ কুটির শিল্প রয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৮ লাখ মানুষের।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ পরিচিতিকরণ এবং সংযোগ সমন্বয়কারী গবেষণা সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) পরিচালক এবং জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সদস্য শোয়েভ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গবেষণা করছি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পগুলো নিয়ে। পণ্য উত্পাদন করার জন্য পুঁজি সহায়তা দিতে হবে। করোনাকালে টিকে থাকতে সহজ শর্তে ২ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে। যেটি সর্বনিম্ন এক বছর পর থেকে কিস্তিতে ফেরতযোগ্য। এনবিআর নতুন একটি আইন করেছে, যেখানে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পগুলোতে ভ্যাট, টিনসহ বিভিন্ন কিছু যুক্ত করেছে। এ শিল্পে ভ্যাট ও ট্যাক্স এগুলো ছাড় দিতে হবে। নতুন ফন্দি বের করেছে যে ঋণ নিতে হলে ভ্যাটের ক্লিয়ারেন্স লাগবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা ভ্যাটের ক্লিয়ারেন্স কোথা থেকে আনবে। এ জন্য এনবিআর এ নির্দেশনা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেন না হয় এ জন্য আবেদন করতে হবে। তাই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাটি রাখতে হবে এনবিআরকে।

জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নরুল গণি শোভন বলেন, করোনার কারণে দেশের সব ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। বর্তমানে ৫০ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বন্ধ রয়েছে। এখন এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফিরে আসতে হলে, প্রথমে ভ্যাট-ট্যাক্সের বিষয়টি আরো সহনীয় অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। সর্বনিম্ন এক বছরের জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদ দিতে হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ সব ধরনের বিল কমপক্ষে ছয় মাসের কিস্তি সুবিধা করে দিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য টার্নওভার কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২-৩ শতাংশ করা উচিত।’

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়াটাই হবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে এই খাতের উন্নয়নে পর্যাপ্ত অর্থায়ন হলে এই খাত এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এ সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির বিষয়টি সহজ করে দেওয়া ব্যাংকগুলোরও কর্তব্য।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com