May 2, 2026, 12:13 pm
আমরা যেভাবে বাঙ্গালি, বাংলাদেশ এবং বাঙ্গালি করে আপ্লুত, যেভাবে প্রতিনিয়ত নাড়াচাড়া করি, এমনটা অন্য কোন দেশে দেখিনা বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
আজ বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মহান বিজয় দিবস ২০২০ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মাঝে মাঝে চিন্তা করি আমি তো অন্যান্য আরও দুই চারটা দেশে গিয়েছি ও থেকেছি। কিন্তু আমরা যেভাবে বাঙ্গালি, বাংলাদেশ এবং বাঙ্গালি করে আপ্লুত, যেভাবে প্রতিনিয়ত নাড়াচাড়া করি ওইসব দেশে কিন্তু তাদেরও অনেক ঘটনা আছে। তাদেরও অনেক নায়ক আছে। তাদের মধ্যে অতটা আলোচনা দেখি না। আমাদের মধ্যেই আলোচনাটা বেশি দেখি, কারণটা কি? আমি কিন্তু সমাজ বিজ্ঞানী নই। কিন্তু আমি দেখি পথে পথে পথে, রন্ধ্রে রন্ধ্রে রন্ধ্রে, ঘরে ঘরে শুধু বাংলাদেশ বাংলাদেশ, বাঙ্গালি বাঙ্গালি করে।
তিনি বলেন, আমি সচিবকে বলছিলাম ইংল্যান্ডে তো সাধারণ জনগণের প্রায় ৮০ ভাগ লোক সেক্সপিয়রকে চিনেই না। এটা তাদের স্টাডিতে বেড়িয়েছে। তবে এটা আমাদের এখানে এতো বেশি কেন? আমি নিজে নিজেই ভাবি বোধহয় আমাদের আঘাতটা প্রচন্ড রকমের ছিল এবং এখনও সাম্প্রতিক। তাদের ঘটনা ঘটেছে হাজার হাজার বছর আগে। তারা অত্যান্ত প্রতিষ্ঠিত ও জাতিসত্ত্বা দীর্ঘদিনের ইতিহাস।
মন্ত্রী বলেন, আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত জাতি, ইতিহাস আমাদের হাজার বছরের, কিন্তু চিন্তিত জাতি হিসেবে আমাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাস নেই। এইমাত্র ৫০ বছর হলো। তাও নানাভাবে বিক্ষিপ্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত, খন্ডিত এটা এক অদ্ভুত ধরনের ইতিহাস। চরম মূল্যের বিনিমনে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছে। বর্তমানে আমরা থিতু হয়েছি এবং প্রতিষ্ঠা গঠনের কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের কাজের ফল আমিও পাই। সম্প্রতি দু-চারজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি আমাকে বলেছে যে, আপনারা আইএমইডিতে বেশ ভালো নড়াচড়া দিচ্ছেন। স্বস্তফূর্ততার সাথে বলেছে, আমার ভালো লেগেছে। এটা কিন্তু আপনাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি। যাই হোক বিজয় আমাদের অর্জিত হয়েছে। বিজয়ের ফল আমাদের হাতে আছে। এটাকে আমরা সবাই উপভোগ করবো, কাজে লাগাবো।
এম এ মান্নান বলেন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমরা জাতি হিসেবে এখন কূলের কাছে আছি। সেই কূলে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতেৃত্বে সর্বশেষ প্রচেষ্ট চলছে। এখানে আমাদের সকলেরই অংশ নেয়ার সুযোগ আছে। আপনারা সেই কাজটি নিজে থেকেই করছেন, এজন্য আপনাদের আমি বহবা জানাই। এছড়া বর্তমানে নেতিবাচক কিছু বিষয় আমাদের নাড়া দিচ্ছে। এটা দু:খজনক। এসময়ে আমাদের সকলেরই সচেতনভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। অত্যান্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে, এ বিষয়টা এখন সবাইকে নাড়া দিয়েছে।
আইএমইডি সচিব বলেন, ‘দেশের সবার ফসল কিন্তু স্বাধীনতা। দেশ স্বাধীন না হলে আমরা কি হতে পারতাম, আর কি হয়েছি। নিজেকে প্রশ্ন করলেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়। এখনও ধর্মকে অপব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার মতো স্পর্ধা দেখায়। এটা খুবই দু:খজনক।
তিনি বলেন, আমার পরিস্কার মনে আছে ১৯৭১ সালে আমরা স্বরণার্থীদের মতো আশ্রয়ে ছিলাম এবং রেশন পেতাম। আমার বাবা একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। বাবা আমাদেরকে বলেছিলেন, আমি শিক্ষক মানুষ আমাকে কি করবে। ২৭ আগস্ট অনেকের সাথে আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা পরে বাবার ডেড বডিও পাইনি। পরবর্তীতে আমাদের ধর্ম অনুযায়ি আমার বাবার দেহের ডামি তৈরি করে শ্মাশানে পুড়িয়েছি। এজন্য বলি, ১৯৭১ সালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা স্বাধীনতাকে একভাবে দেখেন। এখনও ওইসময়ের কষ্টের দৃশ্য চোখে ভাসে।
বিজনেস নিউজ/এমআরএম