May 25, 2026, 12:03 pm
রমজান মাসের আগে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাণিজ্যমন্ত্রী জোর দিয়েছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে ‘সাউন্ড বাইট’ নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ এবং সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে কাজ দেখানোই সরকারের অগ্রাধিকার।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
রমজান এলেই ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে প্রশ্ন উঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ‘সাউন্ড বাইট’ দেবো না। ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাবো। বাজার তদারকি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
যেসব পণ্যের দাম রমজান শুরুতে সাময়িকভাবে বেড়েছে, তাতে তিনি জানান, এটি এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। “মানুষ সাধারণত পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করে, ফলে হঠাৎ করে ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং খুচরা বাজারে সাময়িক প্রভাব পড়ে।”
রপ্তানি নিয়ে চলমান নিম্নগতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্য থেকে আসে। নতুন পণ্য যুক্ত করে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করেছে।”
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হয় যে তাঁদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়া যাবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “দেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইএটি