July 12, 2026, 2:41 am
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১২ তারিখ বারবার ফিরে আসবে না। ৫ আগস্ট যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভাই-বোনেরা রক্ত দিয়েছেন, সেই রক্তের ঋণ পরিশোধের দিন হলো ১২ তারিখ। যারা এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে। ভোটের দিন জনগণ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও ঋণখেলাপিদের লালকার্ড দেখাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যারা ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিলাম, তাদের মধ্য থেকে একটি অংশ মজলুম থেকে জালেম হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ যে অপকর্ম করত, তারাই ৬ তারিখ সকাল থেকে সেই অপকর্ম শুরু করেছে। ৬ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত যারা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে, তারা আর থামেনি। আমরা তো এজন্য লড়াই করিনি, রক্ত দেইনি।”
তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল— উই ওয়ান্ট জাস্টিস।”
একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, তারা মাঝে মাঝে বলে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অথচ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতদের বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবরার ফাহাদ ও হাদীর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আবরার ফাহাদ, হাদী—তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। আমরা সুযোগ পেলে, তোমরা যেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলে, তেমনি একটি উদ্বীপ্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।”
শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে নাহিদ ইসলামের মতো তরুণরা বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের পাইলট হবে, আর তারা নিজেরা থাকবেন যাত্রী হিসেবে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পাঁচ বছরই যথেষ্ট। আমরা কোনো ভুল আশ্বাস দেবো না। যা বলবো, তা জানপ্রাণ দিয়ে পালন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদার হবো।”
ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে যারা পাহারাদার ছিলেন, ১২ তারিখও আপনারাই পাহারাদার হবেন। আমাদের কাছে আপনাদের একটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ, একটি আসনও গুরুত্বপূর্ণ।”