May 1, 2026, 4:59 am
বাংলাদেশে একশ অর্থনৈতিক জোন করা হচ্ছে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
মহামারীর অভিঘাত সামাল দিয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরা বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের মতো দেশের বিনিয়োগ ‘অপার সম্ভাবনা’ তৈরি করবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী পর্যায়ের এক আলোচনায় বিনিয়োগের সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
বাংলাদেশে ব্যবসায়বান্ধব শাসন ব্যবস্থা ও বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে সালমান এফ রহমান বলেন, “মহামারীর আগেও বাংলাদেশ শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলমান সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশটি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অর্থনৈতিক অবস্থা দ্রুত স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আমরা হাই-টেক পার্ক ও অর্থনৈতিক জোনগুলোতে বিশেষ সুযোগ দিচ্ছি। দেশে যে কোনো আইটি অবকাঠামোভিত্তিক বিনিয়োগের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক লাইন রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন গ্যাস, পানির পর্যাপ্ত সরবরাহসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের প্রচুর উদ্বৃত্ত রয়েছে। এছাড়াও আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সার মার্কেট ও ক্রমবর্ধমান আইসিটি সেক্টর রয়েছে।”
সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন (এসবিএফ), সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাই কমিশন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিআইডিএ), পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টর ফেডারেশন ও এফবিসিসিআই যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের অন্তর্দৃষ্টি’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বর্তমান কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব সারা বিশ্বে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার চারটি মূল অর্থনৈতিক পদক্ষেপে গুরুত্ব দিয়েছে। অর্থ সঞ্চালনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা নেট প্রোগ্রামের আওতায় ৪৫ মিলিয়ন লোককে খাদ্য সহায়তা, ৫ মিলিয়ন পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা, ব্যাংকিং তারল্য ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.৭৫ শতাংশ করা, রেপো রেট ৪ শতাংশ করা এর মধ্যে অন্যতম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ ব্যবসা, রপ্তানি, কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রকে সহযোগিতা করতে মোট ১২.১ বিলিয়ন ডলার (জিডিপির ৩.৭%) মূল্যের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের একটি অনুকূল বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এই ধরনের সমন্বিত ও ব্যাপক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আমাদের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। ২০২০ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি, রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির সাথে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রবণতা দেখিয়েছে। কোভিড-১৯ সংকট থাকা সত্ত্বেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি বেড়েছে ৫.২৪ শতাংশ, রেমিটেন্স ৫.৪ শতাংশ এবং ফরেক্স রিজার্ভ প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্র, লাইট-ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর, বিনিয়োগের জন্য প্রযুক্তির মতো অসংখ্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রকে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছে।
ওয়েবিনারে বিডার পরিচালক আরিফুল হক, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ, পিএসএ মেরিনের সহ-সভাপতি স্যামুয়েল লি, এপেক্স গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুরসহ অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরেন।
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, এসবিএফ সাউথ-এশিয়া বিজনেসের ভাইস চেয়ারম্যান প্রসূন মুখার্জি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।