July 10, 2026, 5:25 am

মুনাফায় বিপিসি, তবুও কমছে না জ্বালানি তেলের দাম

মুনাফায় বিপিসি, তবুও কমছে না জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে লোকসানের হাত থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) বাঁচাতে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের দাম ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে সরকার। ফলে বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরে চার হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। তবে, যথেষ্ট মুনাফা ও বিশ্ববাজারে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকার পরও দেশের বাজারে কমছে না জ্বালানি তেলের দাম

দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার মাত্র ৮ শতাংশ পূরণ হয় স্থানীয় উৎস থেকে। আমদানির মাধ্যমে বাকি চাহিদা পূরণে কাজ করে বিপিসি। অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এর বাইরে আটটি দেশ থেকে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়।

বিপিসির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১৫ লাখ ৫১ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে বিপিসি। এর মধ্যে রয়েছে ছয় লাখ ৮২ হাজার টন মারবান ক্রুড ও আট লাখ ৬৯ হাজার টন অ্যারাবিয়ান ক্রুড। আমদানিবাবদ সংস্থাটির ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা।

এ ছাড়া, ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল, প্রায় তিন লাখ ৩৭ হাজার টন মোগ্যাস, চার লাখ ৭৮ হাজার টন জেট ফুয়েল, প্রায় চার লাখ ৩৬ হাজার টন ফার্নেস অয়েল ও ৩০ হাজার টন মেরিন ফুয়েল আমদানি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে সংস্থাটি এ সময় মোট পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করেছে প্রায় ৫৩ লাখ ১৭ হাজার টন, যার আর্থিক মূল্য ৫১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।

করোনা-পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে লোকসানের মুখে পড়ে বিপিসি। সেবার ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ৭০৫ কোটি টাকা লোকসান করে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এর আগে থেকে লাভের মুখেই ছিল বিপিসি। গত নয় বছরে বিপিসির মুনাফার পরিমাণ ৪২ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চার হাজার ২১২ কোটি ,২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাত হাজার ৭৫৩ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চার হাজার ৫৫১ কোটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছয় হাজার ৫৩৩ কোটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিন হাজার ৮৪৬ কোটি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৬৫ কোটি, ২০২০-২১ অর্থবছরে নয় হাজার ৯২ কোটি টাকা মুনাফা করে বিপিসি। এর মধ্যে কেবল ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছিল।

দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার মাত্র ৮ শতাংশ পূরণ হয় স্থানীয় উৎস থেকে। আমদানির মাধ্যমে বাকি চাহিদা পূরণে কাজ করে বিপিসি। অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এর বাইরে আটটি দেশ থেকে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়

এমন মুনাফা সত্ত্বেও লোকসানের হাত থেকে বিপিসিকে বাঁচাতে ২০২২ সালে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার। ফলে শেষ অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ মুনাফার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১৫ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা জমা দেয় সংস্থাটি। সবমিলিয়ে গত নয় বছরে মোট এক লাখ ৫৯৭ কোটি টাকা সরকারের নিকট জমা দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ২২৯ কোটি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছয় হাজার ২১৯ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নয় হাজার ২৪৮ কোটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নয় হাজার ৯৭ কোটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নয় হাজার ৫৯০ কোটি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৪ হাজার ১৪৬ কোটি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৫ হাজার ৭৭৮ কোটি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপিসি লোকসান করা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছিল ১৫ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা।

তবে, বিপিসির মুনাফা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসের সুফল পাচ্ছে না জনগণ। বিগত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ওঠা-নামা করছে ৭০ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে। গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ৮০ দশমিক ৬৫ ডলার। এতে করে বিপিসিরও মুনাফা হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুনাফা নয় বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচিত সাশ্রয়ী মূল্যে জনগণের নিকট পণ্য সরবরাহ করা।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com