July 10, 2026, 11:08 am
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞার খবরে বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। বিক্রেতারা ক্রেতাদের নানা অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।
পেঁয়াজের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। দেশের বেশিরভাগ বাজারে চলছে তাদের অভিযান। সাময়িক সময়ের জন্য দাম কমলেও অভিযান শেষে আবারও বেড়ে যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরেজমিন ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজার ছাড়াও একেক বাজারের বিক্রেতারা পেঁয়াজের একেক রকম দাম রাখছেন। অধিকাংশ বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ১৯০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি এবং মান ততটা ভালো না হওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতাকে আমদানি করা পেঁয়াজ কিনতে দেখা গেছে। চীন থেকে আমদানি করা বড় আকারের পেঁয়াজের দাম পড়ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। দেশের বাজারে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ এসেছে। এই সুযোগে তার দামও কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে ৮০-৯০ টাকায় উঠেছে।
কারওয়ান বাজারে কথা হয় ক্রেতা তওহিদ বেপারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাচেলরদের নিয়ে একটা মেস চালাই। গতকাল বিকালেও ভারতীয় পেঁয়াজ ১৬০ টাকায় কিনেছি। আজকে সেই পেঁয়াজ কিনলাম ১৯০ টাকায়। ভেবেছিলাম, নতুন পেঁয়াজ এলে আর দাম বাড়বে না, বরং কমবে। এজন্য আগেভাগে পেঁয়াজ কিনেও রাখিনি। এখন যে অবস্থা, তাতে আর কী বলবো!’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের মান একটু ভালো আর দামও দেশি পেঁয়াজ থেকে কম, তাই আমদানি করা পেঁয়াজের দিকেই মানুষ ঝুঁকছে।’
কারওয়ান বাজারের আরেক ক্রেতা আফজাল মিয়া বলেন, ‘পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে। পেঁয়াজ নিয়ে ফাজলামো হচ্ছে। অভিযান হলেই দাম কমায়, নয়তো বাজারের বিক্রেতারা সব একজোট হয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে ফেলে। আমি বাজারে এসেছি বাজার করতে। সব সদাই কিনে ফেলেছি। শেষে পেঁয়াজের দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করতেই মাথার ওপর বাজ পড়লো। দেশি পেঁয়াজের দাম চাইছে ২৪০ টাকা। এখন পেঁয়াজ না কিনেই বাসায় চলে যাচ্ছি।’
কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শামসু হালদার ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘পেঁয়াজ কিনতে হয় বেশি টাকা দিয়া, বেচমু কি লস দিয়া? আমাগো বাজারে অভিযান চালানোর আগে বড় আড়তদারগো কাছে অভিযান চালানো দরকার। যেসব ব্যবসায়ী দাম একটু কম রাখছেন, তাদের কাছে আগের কেনা পেঁয়াজ ছিল। নতুন যেসব পেঁয়াজ বাজারে আসছে, সেসব পেঁয়াজের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। আমরা যে পেঁয়াজ কিনেছি ১৯০ টাকায় তা কেমনে ২০০ টাকায় বেচমু। গাড়ির খরচ, দোকান ভাড়া, আমাগো খরচ কে দিব?’
আরেক ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ‘দাম বাড়ছে তাই পেঁয়াজ পরিমাণে একটু কম কিনেছি, বিক্রিও করবো কম। কারণ কাস্টমারের সঙ্গে ঝগড়া করতে এখন আর ভালো লাগে না। পেঁয়াজের বাজার ঠিক হইলে তারপর পেঁয়াজ বেচাকেনা বাড়ামু।’
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি ব্যবসায়ীরা রাতারাতি একযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সে কারণে তাদের বাধ্য হয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।