August 24, 2026, 4:47 pm

বায়ার্নের বিপক্ষে হেরেও সেমি ফাইনালে পিএসজি

বায়ার্নের বিপক্ষে হেরেও সেমি ফাইনালে পিএসজি

ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হলেও অসম্ভব ছিল না। প্রতিপক্ষের সুযোগ নষ্টের মিছিলে টিকে থাকার সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। তবে হলো না শেষ পর্যন্ত। ঘরের মাঠে হেরেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে পা রাখল পিএসজি।

প্যারিসে মঙ্গলবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ১-০ গোলে হেরেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম পর্বে তারা ৩-২ গোলে জেতায় দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩। গত আসরের ফাইনালের দুই দলের লড়াইয়ে অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে শেষ চারে উঠেছে পিএসজি।

সেমি-ফাইনালে যেতে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হতো শিরোপাধারী বায়ার্নকে। ম্যাচের শুরুর দিকের চিত্র অবশ্য তাদের চাওয়ার উল্টো কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। মুহুর্মুহু আক্রমণে সফরকারীদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলে কিলিয়ান এমবাপে-নেইমার জুটি। কিন্তু বাধ সাধে দুর্ভাগ্য, সঙ্গে তাদের দুর্বল ফিনিশিং। গোলপোস্টে মানুয়েল নয়ারও ছিলেন দুর্দান্ত।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কমে যায়, পিএসজিও পারেনি শুরুর ছন্দ ধরে রাখতে। বিরতির আগে এরিক-মাক্সিম চুপো মোটিংয়ের গোলে যে আত্মবিশ্বাস পায় বায়ার্ন, তাতে শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রাখে তারা। কিন্তু দ্বিতীয় সাফল্যের দেখা আর মেলেনি।

প্রথম লেগের নায়ক এমবাপের নৈপুণ্যে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগটি পায় পিএসজি। ডান দিক দিয়ে ফরাসি ফরোয়ার্ডের ডি-বক্সে ঢুকে নেওয়া শট দূরের পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে যায়।

ছয় মিনিট পর তার গোলমুখে বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলেন নেইমার। ওখানেই ভুলটা করেন তিনি। বল ক্লিয়ার করতে পারেনি ডিফেন্ডাররাও। মুহূর্ত বাদে ফাঁকায় বল দেখে ব্রাজিলিয়ান তারকা শট নেন ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

২৭তম মিনিটে আবারও হতাশ করেন নেইমার। ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে ডান দিকে ফাঁকায় বল বাড়ান এমবাপে। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক, কিন্তু মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। সঠিক সময়ে এগিয়ে গিয়ে তার শট ঠেকিয়ে দেন মানুয়েল নয়ার।

পরের ১০ মিনিটে আরও তিনটি সুযোগ পান নেইমার। কিন্তু ব্যর্থতা যেন আষ্ট্রেপৃষ্টে জড়িয়ে ছিল তাকে। ৩৪তম মিনিটে ডিফেন্ডার লুকা এরনদেঁজকে কাটিয়ে তার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান নয়ার। আর ৩৭তম মিনিটে ক্রসবারে ও দুই মিনিট পর পোস্টে লেগে ব্যর্থ হয় তার আরও দুটি চেষ্টা।

প্রতিপক্ষের ব্যর্থতার মাঝে ৪০তম মিনিটে বল জাল পাঠান চুপো মোটিং। দাভিদ আলাবার শট কেইলর নাভাস ঝাঁপিয়ে ঠেকালেও বল তার হাতে লেগে উপরে উঠে যায়। গোলমুখে ছুটে গিয়ে হেডে গোলটি করেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড।

৪৪তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেতে পারত বায়ার্ন। তবে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার আলাবার জোরালো শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান নাভাস।

বিরতির পরও ব্যর্থতা পিছু ছাড়েনি নেইমারের। ৫৩তম মিনিটে গোললাইনের সামনে বল পেয়েও স্লাইডে পা লাগাতে পারেননি নেইমার। ৭৮তম মিনিটে প্রতি-আক্রমণে এমবাপে জালে বল পাঠালেও বাজে অফসাইডের বাঁশি।

শেষ দিকে আবারও বায়ার্নের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় নেইমার-এমবাপে। সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে গতিতে পেছনে ফেলে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান দিকে বল বাড়ান এমবাপে। বলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন নেইমার, ঠাণ্ডা মাথায় ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে ক্লিয়ার করেন নয়ার।

পুরো ম্যাচে ৫৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে ১৩টি শট নেয় বায়ার্ন, যার পাঁচটি লক্ষ্যে। সেখানে পিএসজির ১০ শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পিএসজির প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। প্রথম লেগে ২-১ গোলে জিতে এগিয়ে আছে ইংলিশ ক্লাব সিটি।

সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে সাফল্য পেলেও ঘরের মাঠে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। এবার সেই ব্যর্থতা ঢাকতে আশাবাদী ছিলেন কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনো। পারফরম্যান্স ভালো হলেও গোল না পাওয়ার দুভার্বনা আরও গভীর হয়েছে। চটজলদি সমাধান না মিললে সামনে ভুগতে হবে লিগ ওয়ানে শিরোপা লড়াইয়ে একটু পিছিয়ে পড়া দলটিকে।

বিজনেস নিউজ/এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com