August 19, 2026, 11:21 pm
করোনায় স্থবির হয়ে পড়েছিল দেশের সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম। এতে ধস দেখা দিয়েছিল নির্মাণ খাতে। আর এ খাতের প্রধান উপকরণ ইস্পাতের বিক্রি ও উৎপাদনও নেমে আসে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না দেশের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী শিল্পগ্রুপ বিএসআরএম।
গ্রুপটির মালিকানাধীন পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিক্রি কমে যায় পাঁচ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা তথা ৪০ শতাংশ। একই সময়ে মুনাফা কমেছে ৫৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পাশাপাশি ইস্পাত খাতে উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি অব্যবহƒত রয়েছে। এর মাঝেও বিএসএসআর নতুন করে ৭০০ কোটি টাকায় নতুন প্লান্ট স্থাপনের ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে ইস্পাতের উদ্যোক্তারাও বিস্মিত।
বিএসআরএম গ্রুপের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ স্টিলস রি-রোলিং মিলস লিমিটেড ও বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডের মোট বিক্রি হয়েছিল আট হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৪ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ করোনা সংক্রমণের প্রভাবে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে পাঁচ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠান দুটির সম্মিলিত নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ছিল ৩৫৮ কোটি টাকা।
এদিকে দেশে বর্তমানে বড় ও মাঝারি আকারের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৯০ লাখ টন। এর মধ্যে বর্তমানে ব্যবহƒত হচ্ছে ৫০ লাখ টন। তবে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর তা ২৫-৩০ লাখ টনে নেমে এসেছে। যদিও এ খাতের বিএসআরএম, এমএইচ স্টিল রি-রোরিং মিলস, পিএইচপি ইন্টিগ্রেটেড স্টিল মিলস, কেআর স্টিল মিলস, ইউনিটেক্স স্টিল মিলস, কুনমিং স্টিলসহ আরও কয়েকটি নতুন কোম্পানি বিনিয়োগে আসছে। তাদের কারখানা নির্মাণের কাজও চলমান আছে। এরই মধ্যে নতুন করে বিনিয়োগে যাচ্ছে বিএসআরএম।
এ বিষয়ে বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে আগের অর্থবছরের তুলনায় আমাদের বিক্রি ও নিট মুনাফা কমেছে। শুধু আমাদের নয়, সব ইস্পাত কোম্পানির একই অবস্থা। তবে এখন আগের চেয়ে বিক্রি বেড়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, দেশের ইস্পাত খাতে ৫০ শতাংশের মতো উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহƒত থাকছে। এর মধ্যে চলছে করোনা সংক্রমণ, যা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আর সামনে শীতে দ্বিতীয় ধাক্কা নিয়ে সবাই চিন্তিত। এছাড়া যে পরিমাণে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে, তা পূরণ করতে আরও কয়েক বছর লাগবে। তাই এ মূহূর্তে নতুন বিনিয়োগ বাজারকে ভারসাম্যহীন করবে, যা কারও জন্য শুভ হবে না। কয়েক বছর আগে ভোজ্যতেলের বাজার কিংবা শিপ ব্রেকিং খাতের দিকে তাকালে বোঝা যাবে কেন ধস নেমেছিল। শুধু ইস্পাত ব্যবসায়ই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিই খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই ইস্পাতে নতুন বিনিয়োগ করার আগে আরও ভালো করে ভাবতে হবে।
নতুন করে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন প্রকল্প ইস্পাত খাতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে কি নাজা নতে চাইলে বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি আছে। ফলে উৎপাদন খরচ কম পড়বে। এছাড়া বাজারে মানসম্মত স্টিলের চাহিদা আছে। শুধু মহেশখালিতে লাখ লাখ টন ইস্পাতের চাহিদা আছে। মূলত দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের বিনিয়োগ। এরই মধ্যে মিরসরাইয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের পরে তো অনেক কোম্পানি উৎপাদন বাড়িয়েছে। তাই ভারসাম্যহীন হবে না। সুযোগ আছে।