April 11, 2026, 2:10 pm
পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের অন্তত এক মাস আগে নোটিশ দিতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পাশাপাশি ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ বলেও জানান মন্ত্রী।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
টিপু মুনশি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা তুরস্ক, মিসর, চায়না ও মিয়ানমার থেকে তা আমদানি করছি। তবে, আমদানি করা পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ হয় প্রতিকেজি ৪৫ টাকা। পরে সেটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকার নিচে খুচরা বাজারে বিক্রি করা যাবে না।
আগামীবছর পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকার নিচে হবে না বলেও জানান তিনি।
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে বাংলাদেশ বিপদে পড়েছে, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে তেমন কোনো কথা হয়নি। আমাদের ও ভারতের একই সময়ে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। প্রতিবছর আমাদের ঘাটতি থাকে ৮ থেকে ৯ লাখ টন। ভারত গতবছর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিলো, এবারও বন্ধ করেছে। গতবছর আমাদের এখানে পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা তখন ভারতে ১৫০ রুপি। যেটা ভারতের জন্য বিরল ঘটনা। এতে করে আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে। আমাদের সব চেষ্টা গতবছর থেকে শুরু করেছি যাতে ভারত বা কোনো দেশের ওপরে নিত্যপণ্যের নির্ভরশীল হতে না হয়।
তিনি বলেন, পেঁয়াজে আমরা রাতারাতি পৌঁছে যাবো তা কিন্তু নয়। এখন ভারতের বাইরে ও আমাদের দেশের আবহাওয়া একই ধরনের। ভারতের যে অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ আসে সে অঞ্চলে বৃষ্টির জন্য উৎপাদনে ক্ষতি হয়েছে। ভারতের বন্যা আমাদের বন্যা একই রকম, তাই আমরা ভারতে ওপর বেশি নির্ভরশীল হতে চাই না বিশেষ করে পেঁয়াজের জন্য। তারপরও যখন আমরা পেঁয়াজের সুবিধাজনক দামে পাই আমরা নিই।
টিপু মুনশি বলেন, আমাদের একটাই উদ্দেশ্য আগামী তিন বছরের মধ্যে যেন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হই। ভারত তাদের লোককে না খাইয়ে আমাদের দেবে না। তারপরও ভারতের কাছে আমাদের যেটা দাবি রপ্তানি বন্ধের নোটিশ যদি আমরা এক মাস আগে পাই তাহলে আমরা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা সুযোগটা পাই। হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়াটা সমস্যা তৈরি করে। তাই আমি রাষ্ট্রদূতের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, রপ্তানি বন্ধের এক মাস আগে যেন আমাদের নোটিশ দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে এটা খারাপ দিক। তবে ভালো দিক হলো আমাদের কৃষকরা কিন্তু টাকা পাচ্ছে। তারা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পাচ্ছে। যা সামনে আরও বেশি করে উৎপাদন করতে উৎসাহী হবে। এতে করে আমরা আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবো। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ কিভাবে উৎপাদন করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আশা করছি, বছরের মাঝামাঝি যদি আমরা নতুন এই পেঁয়াজটা আনতে পারি তাহলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।
ভারতে কিছু মিডিয়ায় বাংলাদেশকে ‘তিরষ্কার’ করে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন মিডিয়া কী করলো কী বললো তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের দেশে যত পজেটিভ নিউজ হয় তার থেকে বেশি হয় নেগেটিভ নিউজ। ভারতের সাথে আমাদের বাজার খোলা আছে। আরও কিছু সুযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হলো। ঝগড়াঝাটি করে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে জানান।