August 28, 2026, 6:07 am
আমাদের দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে শেয়ারের সঙ্গে তুলনা করা হয়, এটা ঠিক না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এর চেয়ারম্যান ড. হাসান ইমাম।
তিনি বলেন, অনেকগুলো শেয়ারের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফান্ড হয়। অথচ এগুলোর এনএভি কত দেখা হয় না। শেয়ার ও এনএভিতে বাংলাদেশে ২০ শতাংশ গ্যাপ রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশও গ্যাপ বড়। আর মার্কেট যখন খারাপও হয় গ্যাপ বেশি হয়। মার্কেট প্রাইস হিসেবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে ধরা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে। প্রকৃতপক্ষে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঝুঁকি কম কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত না। এখানে ঝুঁকি আছে। কাঠামোগত-আইনগত কারণে না ইমেজ সংকট লভ্যাংশ দিলে মার্কেট ভালো হলে, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এসেট ম্যান্টেম ভালা পারর্ফম করবে।
আজ (১০ অক্টোবর) অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডসে (এএএমসিএমএফ) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব এবং দেশের অর্থনীতিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সভায় তিনি সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
এএএমসিএমএফ’র চেয়ারম্যান বলেন, সব দিক থেকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে নেতিবাচক বলা হচ্ছে। দেশের পুঁজিবাজার ভালো থাকলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোও ভালো পারফর্ম করবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইমেজ ভালো এটা বলা কোনো অবকাশ নেই। তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড গত ২-৩ বছর ধরে ভালো করছে।
তিনি বলেন, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজার তিন-চার মাস পর ভালো হয়। আমাদের দেশের ২০০৯-২০১০ সালে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশ ঘটেছে। এরপর মার্কেট খারাপ থাকলেও ২০১১ সালে মিউচুয়্যাল ফান্ডের অবস্থা ভালো ছিলো। এরপর ৮-৯ বছর ধরে মার্কেট খারাপ যাচ্ছে। ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতও খারাপ করছে। এরপরও ইউনিট হোল্ডারদের গত ১০ বছরের ৩ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।
হাসান ইমাম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কাঠামোগত অনেক সমস্যা আছে, এটা হাস্যকর। কাঠামোর কারণে ৩০০ বছর পুরাতন এটা বেঁচে আছে। ভারত-পাকিস্তান ইউরোপের যেকোন দেশের কাঠামোর মতই আমাদের একই অবকাঠামো। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আইন-১০৭ পাতা। তারপরও ভারতের আইনের চেয়ে ভালো ও সহজ। নতুন করে সংস্কারের কোনো প্রয়োজন দেখি না। কাঠামোগত ও আইনগত সমস্যা নেই তারপরও কি ব্যবস্থাপনার কারণে এই অবস্থা বলে প্রশ্ন করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে শেয়ারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এটা ঠিক না। অনেকগুলো শেয়ারের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফান্ড হয়। অথচ এগুলোর এনএভি কত দেখা হয় না। শেয়ার ও এনএভিতে বাংলাদেশে ২০ শতাংশ গ্যাপ রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশও গ্যাপ বড়। আর মার্কেট যখন খারাপও হয় গ্যাপ বেশি হয়। মার্কেট প্রাইস হিসেবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে ধরা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে। প্রকৃতপক্ষে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঝুঁকি কম কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত না। এখানে ঝুঁকি আছে। কাঠামোগত-আইনগত কারণে না ইমেজ সংকট লভ্যাংশ দিলে মার্কেট ভালো হলে, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এসেট ম্যান্টেম ভালা পারর্ফম করবে।
নতুন করে নতুন প্রোডাক্ট আনা দরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নতুন করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ইন্স্যুরেন্স ও প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করার দরকার। এখানো অর্থমন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসিইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সহযোগিতার দরকার রয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে আমরাও ভারতের মতই জিডিপিতে ১৩-১৪ শতাংশ অবদার রাখতে পারবো।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেন এবং অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুল ইসলামসহ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এমডিরা বক্তব্য রাখেন।