August 28, 2026, 2:51 am
পুঁজিবাজারের মন্দ কোম্পানিগুলোকে চিহৃত করার জন্য জেড ক্যাটাগরির নামে একটি অপশন চালু করা হয়েছে। এই গ্রুপের কোম্পানিগুলোকে আবার গ্রিন, ইয়েলো ও রেড তিন শ্রেণিতে ভাগ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মন্দ কোম্পানি গুলোর তালিকায় মোট ৫৩টি কোম্পানি রয়েছে। এরমধ্যে গ্রিন ও ইয়োলো হলো ৩৫টি। কোম্পানিগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে বিএসইসির একটি দক্ষ টিম। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলোর উপর তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যেই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে নতুন কমিশন; এভাবে চলতে থাকলে পুঁজিবাজারকে তার লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই কোম্পানিগুলোতে সুশাসন ফেলাতে বিএসইসি জেড ক্যাটাগরিকে তিন শ্রেনিতে ভাগ করেছে। অবশ্যই তা প্রসংশনীয় কাজ করেছে বিএসইসির নতুন কমিশন।
গ্রিন ১৩ কোম্পানি: বিএসইসির নতুন নির্দেশনার কারণে জেড থেকে এ ও বি ক্যাটাগরিতে এসেছে ১৩ কোম্পানি।ইতোমধ্যে ১২টি কোম্পানি এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। খুব শিগগির এই তালিকায় আরও একটি কোম্পানি যুক্ত হচ্ছে। কোম্পানিগুলো হলো-এ ক্যাটাগরিতে আসবে: নতুন এ নির্দেশনার ফলে আজ থেকে ৬টি কোম্পানি এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হবে। কোম্পানিগুলো হলো- এবি ব্যাংক, ফু-ওয়াং সিরামিক, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, লিবরা ইনফিউশনস, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ও রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর।
বি ক্যাটাগরিতে আসবে: নতুন এ নির্দেশনার ফলে আজ থেকে ৬টি কোম্পানি এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হবে। কোম্পানিগুলো হলো- বিডি থাই, অ্যাপোলো ইস্পাত, খান ব্রাদার্স পিপি, সাফকো স্পিনিং, সালভো কেমিক্যাল,ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ও জাহিনটেক্স।
ইয়েলো: এই তালিকায় রয়েছে ২২ টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলোর সাথে আলাদা আলাদা বসে কথা বলছে বিএসইসি। একই সাথে কোম্পানিগুলোর মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আগামীর ব্যবসায়ীক পরিকল্পনা নিচ্ছে কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানিগুলো হলো-শ্যামপুর সুগার, ঝিলবাংলা, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল, অ্যারামিট সিমেন্ট, বাংলাদেশ সার্ভিস, বীচ হ্যাচারি, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, ডেল্টা স্পিনার্স, দুলামিয়া কটন, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জেনারেশন নেক্সট, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, ইমাম বাটন, কেয়া কসমেটিকস, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, শাইনপুকুর সিরামিকস, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং এবং উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেড।
রেড জোনে ১৮ কোম্পানি: এই তালিকায় রয়েছে ১৩টি কোম্পানি।
এ বিষয়ে বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা আমাদের মোটেই লক্ষ্য নয়। সচল রাখা আমাদের মোলিক লক্ষ্য। বন্ধ করে দিলে লাভ কি। বন্ধ করে দিলে কোন লাভ নেই। মার্কেট যেন ভালো হয়। আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নাই। আমরা এত পরিশ্রম করছি যাতে মার্কেট ভালো হয়। উদ্দেশ্য আমাদের খুবই ক্লিয়ার। যে বিনিয়োগকারী এবং যে উদ্যোক্তা দুজনকেই আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সবাই যাতে ভালো থাকে এটাই আমাদের চেষ্টা।
তিনি জানান, আমরা জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রথমত আমরা কোম্পিানিগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছি। কেউ ২% আছে, কেউ ৩% আছে, কেউ ডিভিডেন্ট দেয় নাই। এরকম জেড ক্যাটাগরিকে আমরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছি। এদের মধ্যে কিছু কিছু কোম্পানি দেখলাম তাদের আর জেড ক্যাটাগরিতে থাকার দরকার নেই। একবছরে তারা ডিভিডেন্ট দিতে পারেনি তাই বলে তারা মার্কেট থেকে পিছিয়ে যাবে তা নয়। সুযোগ দিলে তারা ফিরে আসতে পারে ফাস্ট ক্লাসে তাদেরকে আমরা সুযোগ দিয়েছি সময় বাড়িয়েছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, একটা কোম্পানির মৌলিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যে, তারা ব্যবসা করবে, তারা এন্টারপ্রেনার, তারা সবসময় মার্কেটে থাকবে, উৎপাদন করবে ফ্যাক্টরি চালাবে, নিজেরা লভ্যাংশ নেবে। কর্মচারিরা কর্ম পাবে। সমস্ত দিক থেকে তারা কাজ করবে। ফাংশনাল একটা প্রতিষ্ঠান হবে। সেটা না করে কেউ কেউ কোন কিছুই না করে তারা বছরে বছরে স্টক ডিভিডেন্ট দিয়েছে। সেগুলো আবার যখন দাম বেড়েছে মার্কেটে। সেগুলোকে বিক্রি করে তারা টাকা নিয়ে চলে গেছে। এই ধরনের অপরাধ আমরা কোনভাবেই ক্ষমা করবো না।