April 30, 2026, 7:38 pm
সুদহার বেশি হওয়ায় বাড়ছে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ। ঋণ বিতরণে সুদহার বেঁধে দেওয়ায় সব ধরনের আমানতে মুনাফা কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংক। ফলে নতুন করে যুক্ত করা একাধিক শর্ত পূরণ করেই এখানে বিনিয়োগ করছেন মানুষ।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি হয়েছে সাত হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, ব্যাংকে আমানতের সুদহার কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি ‘নিরাপদ’ মনে করছেন। তাই বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট ১৭ হাজার ৫৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর বিপরীতে মূল পরিশোধ হয়েছে ১০ হাজার ১০২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ নিট বিক্রি হিসেবে গণ্য হয়। সেই হিসেবে আলোচিত সময়ে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং নিট বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১০৪ শতাংশ।
গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১১ হাজার ৩০৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। আর দুই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, একক মাস হিসাবে আগস্টে মোট ৮ হাজার ৮৫২ কোটি ২৯ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর বিপরীতে মূল পরিশোধ হয়েছে ৫ হাজার ১০৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে আগস্টে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৪৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর আগের মাস জুলাইয়ে মোট ৮ হাজার ৭০৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে। ওই সময় নিট বিক্রির পরিমাণ ৩ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর সঞ্চয়পত্র অস্বাভাবিক বিক্রি বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার এ খাতের ওপর বেশ কয়েকটি বিধিনিষেধ আরোপ করে। আগে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য কোনো ক্রেতাকে কর শনাক্ত নম্বর বা ই-টিআইএন জমা দিতে হতো না। কিন্তু এখন এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুর্নীতি কিংবা অপ্রদর্শিত আয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ করতে ক্রেতার তথ্যের একটি ডেটাবেজে সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার। চাইলেই ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে পুরো বিক্রি কার্যক্রমটি এখন অনলাইনের মাধ্যমে মনিটর করায় কেউ ইচ্ছে করলে, সীমা অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র বা একই নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনতে পারবে না। এতসব শর্তের পর গত অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি। কিন্তু ব্যবসায় মন্দা ও ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় বেশি মুনাফার আশায় এখন বিভিন্ন শর্ত পূরণ করেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে সাধারণ মানুষ।
এদিকে চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবার সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যার লক্ষ্য ছিল ২৭ কোটি টাকা। গেল অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা; যা তার আগের অর্থবছরে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেই হিসেবে গেল অর্থবছরের সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছিল ৭১ দশমিক ১০ শতাংশ। জানা গেছে, এর আগে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে এই হার কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।