May 2, 2026, 2:42 am

ব্যাংক খাত নিয়ে ভুয়া সংস্থার উড়ো অভিযোগ

ব্যাংক খাত নিয়ে ভুয়া সংস্থার উড়ো অভিযোগ

বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প গোষ্ঠীর নামে নানা অভিযোগ করে তৈরি করা হচ্ছে ভুয়া প্রতিবেদন। আর সেই প্রতিবেদন দেখিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করে আর্থিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সার্ভেইল্যান্স ফোরাম, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’ নামের একটি ভুয়া সংস্থা।

রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনের ৫ নম্বর সেক্টরের ৬/এ সড়কের ৬ নম্বর প্লটে নিজেদের ঢাকা কার্যালয় দেখিয়ে এ তৎপরতা চালাচ্ছে সংস্থাটি। যদিও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্লটটিতে দালান বা ইট-সিমেন্টের কোনো স্থাপনা নেই। অ্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেডের মালিক মিজান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্লটটিতে চাষ হয় সবজি; রয়েছে চায়ের টং দোকান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরকে স্থায়ী ঠিকানা দেখানো সংস্থাটি বাংলাদেশে নিবন্ধিত নয়। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দেখানো হয়েছে জন এ. বারী নামের এক ব্যক্তিকে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নিজেদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করছে সংস্থাটি। সম্প্রতি তারা ‘বাংলাদেশের বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত’ নামে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এ ধরনের ভুয়া কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করে আর্থিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে কথিত সংস্থাটির সঙ্গে জড়িত প্রতারক চক্র।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সিঙ্গাপুর রিজিওনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (এসটিআই) ওয়েবসাইটকে নিজেদের ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহার করেছে ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সার্ভেইল্যান্স ফোরাম, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’। কিন্তু আইএমএফের সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওই ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তাদের কোনো শাখা বা কার্যক্রম নেই বাংলাদেশে।

এসটিআই বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ অর্থনীতির নানা বিষয়ে স্বল্পমেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়। এসটিআই কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর গবেষণা, অনুসন্ধান বা প্রতিবেদন তৈরি করে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দুইজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সার্ভেইল্যান্স ফোরাম, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’ নামে কোনো সংস্থার অনুমোদন নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ভুঁইফোঁড় হলে অবশ্যই সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গবেষণা সংস্থার অনুমোদন দেয়া তাদের এখতিয়ারের বাইরে।

১৯৬১ সালের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অলাভজনক ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। আর যদি প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক লিমিটেড কিংবা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হয়, তাহলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। সেখান থেকেও অনুমোদিত নয় ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সার্ভেইল্যান্স ফোরাম, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’ নামের সংস্থাটি।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com