April 30, 2026, 8:38 am

সরকারি ৪ ব্যাংকের পুঁজিবাজারে আসা নিয়ে সংশয়

সরকারি ৪ ব্যাংকের পুঁজিবাজারে আসা নিয়ে সংশয়

নির্ধারিত সময়ে সরকারি ৪ ব্যাংকের শেয়ার পুঁজিবাজারে আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ব্যাংকগুলো হল- সোনালী, অগ্রণী, জনতা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)। এর ফলে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি ব্যাংকের শেয়ার ছাড়ার যে সময়সীমা দেয়া হয়েছিল তা আরও পিছিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে করোনার দোহাই দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে বর্তমানে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংক তাদের আরও ১৫ শতাংশ শেয়ার অফলোডের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। অর্থমন্ত্রীর অনুমতির জন্য শিগগিরই প্রস্তাব পাঠাবে প্রতিষ্ঠানটি। অনুমতি পেলে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের (আইসিবি) মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শেয়ার অফলোড করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পুঁজিবাজারে চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহের সংকট বেশি। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অফলোড জরুরি।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট। চাহিদা ও সরবরাহ, দুই কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বলা হচ্ছে, বাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা কম। আর ভালো কোম্পানি না থাকলে বাজারের গভীরতা বাড়ে না। এ অবস্থায় সরকারি শেয়ার তালিকাভুক্তি জরুরি। তিনি আরও বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সরকারি শেয়ার তালিকাভুক্তির বিষয়টি বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে।

এরআগে, শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে ৪টি ব্যাংকের শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো হল- সোনালী, অগ্রণী, জনতা এবং বিডিবিএল। এসব প্রতিষ্ঠানকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে বলা হয়। এক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। অন্যদিকে আরেক সরকারি প্রতিষ্ঠান রূপালী ব্যাংক বর্তমানে তালিকাভুক্ত। বিনিয়োগকারীদের হাতে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তাই এ প্রতিষ্ঠান আরও ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে মোট ২৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে দিতে বলা হয়। তবে এজন্য কোনো সময়সীমা ছিল না। আর ৯ ফেব্রুয়ারির ওই বৈঠকের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সম্প্রতি আবারও বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে ৪টি ব্যাংক থেকে জানানো হয়, করোনার কারণে প্রস্তুতি নিতে পারেনি তারা। ফলে শেয়ার ছাড়তে আরও সময় লাগবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বৈঠকে রূপালী ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. শওকত জাহান খান জানান, এর আগেই তারা শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বাজারে দরপতনের কারণে উদ্যোগ থেমে যায়। এখন তারা শেয়ার ছাড়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বৈঠকে জানান, শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে কিছু রেগুলেটরি নিয়ম রয়েছে। এই নিয়মগুলো মেনে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার ছাড়া যেতে পারে। তবে শেয়ারের দর উত্থান-পতন এবং চাহিদা ও জোগানের কথা চিন্তা করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।

বৈঠকে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা দাস জানান, ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশে রূপালী ব্যাংকের মোট শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ কোটি ২৬ লাখ। আর বাজারমূল্যে শেয়ার ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে ট্রান্সফার কস্ট এবং সরকারকে ৫ শতাংশ আগাম কর দিতে হবে। তবে কর মওকুফের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আবেদন করা যেতে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবার বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ২৮ টাকা। ফলে ১৫ দশমিক ৮১ শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১৭৫ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারের অবস্থা ভালো। এই অবস্থা ধরে রাখতে সব পক্ষের সহায়তা জরুরি। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এলে বিনিয়োগ এবং সরকার উভয়ই লাভবান হবে। আর বাজারের গভীরতা বাড়বে। তবে তিনি বলেন, আমলাদের বিরোধিতার কারণে সরকারি শেয়ার তালিকাভুক্তির বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে আটকে আছে। বাজারের স্বার্থে এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com