June 29, 2026, 6:57 pm

লুটপাট-অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন, আসছে ‘সিটা’ প্রকল্প

লুটপাট-অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন, আসছে ‘সিটা’ প্রকল্প

অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে যে লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে, তা বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রহিম মোহাম্মদ জোনায়েদ সাকি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়কে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে কর ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং রাজস্বের ভিত্তি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের উন্নয়ন চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ানোর জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর এই সক্ষমতা তৈরিতে সিটা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি অর্থের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা জরুরি। সরকারি অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে।

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিবিএসের তথ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের বিকল্প নেই। মূল্যস্ফীতি, জিডিপি, জনসংখ্যা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক জরিপসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তৈরিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। এতে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও বাস্তবভিত্তিক হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রকল্পের ব্যয় যাচাই ও বিশ্লেষণ আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সিটা প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও তথ্যভান্ডার সমন্বিত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে এটি সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির সিইও (সচিব) মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইএটি

Please Share This Post in Your Social Media


Leave a Reply

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com