July 27, 2026, 2:05 am
‘আমার জীবন আর চালাই নিতে পারছি নারে ভাই। প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার। মাহমুদ, অনেক ভালোবাসি ভাই তোকে। আমাকে মাফ করে দিস। বাবুকে দেখে রাখি।’ এভাবে ছোট ভাইয়ের কাছে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন বড়ভাই।
বিবাহবিচ্ছেদের যন্ত্রণা আর সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে না পারার কথা ছোট ভাইয়ের কাছে চিরকুট লেখে আত্মহত্যা করেন আল আমীন (৪০)। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ছিলেন।
নিহত আল আমীন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলের দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল খানের বড় ছেলে।
গত শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সুইসাইড নোটে যা লিখা ছিল তা সময়ের আলোর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো, আর পারলাম না ভাই, ভাই আমার জীবন আর চালাই নিতে পারছি নারে ভাই। প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার। মাহমুদ, অনেক ভালোবাসি ভাই তোকে। আমাকে মাফ করে দিস। আমার সংসারটা শীলার বাবা, মা আর ওর ভাই নাহিদ নষ্ট করে দিছে। আমার কলিজার টুকরাকেও নিয়ে গেছে ওরা। ভাই, প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা, কষ্ট থেকে এটা ছাড়া উপায় ছিল না। ভাই, আমার অসহায়ত্ব আর চোখের পানিও ওদের কাছে হাসি-তামাশার মনে হয়েছে। ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস। আর পারলাম না ভাই। একটু একটু করে মরার চেয়ে একেবারেই মরে যাওয়া ভালো। তা-ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব। আমার আব্বা-মাকে মাফ করে দিতে বইলো ভাই।
এই সুইসাইড নোট তার ছোট ভাই মাহমুদের কাছে লিখে আত্মহত্যা করেছেন বড় ভাই আল আমীন (৪০)। আর সেই সুইসাইড নোটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে পোস্ট করেছেন মাহমুদ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে শিলাকে বিয়ে করেন তিনি। সম্প্রতি তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। আশরাফুল নামে তাদের দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর নিজ সন্তানকে কাছে রাখতে না পারার হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। ওই অবস্থায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ভাইয়ের কাছে সুইসাইড নোট লিখে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিষপান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতেই তিনি টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে মারা যান।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তাস্তর করা হয়েছে