August 28, 2026, 7:16 am
দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গত চার মাসে (৩১ মে-৩০ সেপ্টেম্বর) ১৯টি কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। নোটিশের জবাবে প্রত্যেকটি কোম্পানি জানিয়েছে, শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে তাদের কাছে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। দাম বাড়ার কারণ জানে না কোম্পানিগুলো।
ডিএসইর এমন কারণ দর্শানোর নোটিশকে গতানুগতিক বলছেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, এই নোটিশ ‘লোক দেখানো’ ছাড়া কিছুই নয়।
বিনিয়োগকারীরা জানান, কোম্পানিগুলোর গতানুগতিক জবাব এবং ডিএসই দায় সারা চিঠির খুব একটা গুরুত্ব নেই। একই রকম চিঠির একই উত্তর। এখানে মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
তাদের মতে, শুধু নোটিশ দিলেই হবে না, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং করতে হবে। এর মাধ্যমে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের সভাপতি আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলে সেই কোম্পানিকে চিঠি দেয় ডিএসই। কিন্তু একই কোম্পানির শেয়ারের দাম যদি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, সে ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেই তাদের। অথচ শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমলেও তো কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দিতে পারে ডিএসই। কিন্তু সেটি তারা দেয় না। এতে করে বোঝা যায়, তারা ভারসাম্য রক্ষা করছে না। তাই এই গৎবাঁধা বিষয় থেকে ডিএসইকে বের হতে হবে।
এদিকে বিনা কারণে লোক দেখানো নোটিশ না দিয়ে প্রয়োজনে ডিএসই দক্ষ অডিট টিমের মাধ্যমে সূক্ষ অডিট সম্পন্ন করে কোম্পানির মূল ফান্ডামেন্টাল ভ্যালু বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সবার বিরুদ্ধেই আমরা ব্যাবস্থা নিচ্ছি। তবে হুট করেই আমরা একটা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারি না। কোন প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা আমাদের মোটেই লক্ষ্য নয়। সচল রাখা আমাদের মোলিক লক্ষ্য। বন্ধ করে দিলে লাভ কি। বন্ধ করে দিলে কোন লাভ নেই।
তিনি বলেন, মার্কেট যেন ভালো হয়। এছাড়া আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নাই। আমরা এত পরিশ্রম করছি যাতে মার্কেট ভালো হয়। উদ্দেশ্য আমাদের খুবই ক্লিয়ার। যে বিনিয়োগকারী এবং যে উদ্যোক্তা দুজনকেই আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সবাই যাতে ভালো থাকে এটাই আমাদের চেষ্টা।
ডিএসই নোটিশ পাঠানো কোম্পানিগুলো মধ্যে রয়েছে ইনফর্মেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, ফু-ওয়াং ফুড, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মেঘনাপেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড, সাভার রেফ্রিজারেটর লিমিটেড, বেক্সিমকো সিন্থেটিকস লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, ফাইন ফুডস লিমিটেড, জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) ও নিটল ইন্স্যুরেন্স।
অপরদিকে, শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় ১৯ কোম্পানির মধ্যে দুটি কোম্পানি শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসি।