July 12, 2026, 4:08 am

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ

চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে তৈরি পোশাকের প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশি টাকায় এর পরিমাণ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এর সিংহভাগ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছ থেকে।

শর্ত অনুযায়ী, এসব ক্রয়াদেশ চলতি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিপমেন্ট করতে হবে।

করোনার লকডাউনে দেশে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় বায়ারদের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ক্রয়াদেশ পূরণে শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ উৎপাদন-সক্ষমতা অনুযায়ী, ক্রয়াদেশ পাওয়া বেশির ভাগ কারখানার শিডিউল আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। আরও ক্রয়াদেশ পাইপলাইনে রয়ে গেছে। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকায় শঙ্কিত ছিলেন ক্রেতারা।

ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, শিডিউল অনুযায়ী শিপমেন্ট ডেলিভরি যাতে কোনো অবস্থাতেই হেরফের না হয়। যদি এ রকম কোনো আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাদের আগেভাগেই জানিয়ে দিতে, যাতে তারা এই অর্ডার সময় থাকতেই প্রতিযোগী অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে পারেন।

তা ছাড়া প্রথমবারের মতো ভারত ও মিয়ানমারে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। আগে থেকেই চীন থেকে স্থানান্তরিত বিপুল পরিমাণ অর্ডারও বাংলাদেশে এসেছে। প্রতিনিয়ত আসছে। ফলে এসব ক্রয়াদেশের শিডিউল রক্ষার চাপ উদ্যোক্তাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে তাদের হাতে কারখানা চালু এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প ছিল না।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, বিশ্বের অনেক ক্রয়াদেশ যেখানে বাতিল হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের পাওয়া এই বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ তৈরি পোশাক খাতের সংকট দূর ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই শুধু সহায়ক হবে না, বরং করোনায় সৃষ্ট দেশের মন্দা অর্থনীতির উত্তরণেও সহায়ক হবে। এ কারণে এই বিপুল ক্রয়াদেশ তারা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাননি।

মূলত রপ্তানি আদেশ বাঁচাতেই সরকারকে বুঝিয়ে দেশে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো তড়িঘড়ি করে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা।

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ
রোববার থেকে আবারও চালু হয়েছে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাগুলো
নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, রোববার কারখানা খোলা হলেও প্রথম দিন শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকালে শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল ৫০ শতাংশ, দুপুরের পর তা ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়।

এক প্রশ্নে জবাবে তিানি বলেন, ‘১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাঁচাতে কারখানা খোলা হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনে কারখানা চালু থাকা অবস্থায় ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। এটা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।

‘এ ধারার রপ্তানি অব্যাহত রাখা গেলে শুধু জুলাইতেই সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভব হতো। কিন্তু গত আট দিন কারখানা বন্ধ থাকায় সেটি হয়নি।

‘দিন যত যাচ্ছে, রপ্তানির ক্রয়াদেশ এবং শিপমেন্টের তাগিদ তত বাড়ছে। এখনই যে হারে রপ্তানি আদেশ রয়েছে, তা যদি গড় হিসাবে কমপক্ষে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারই ধরি, তাহলেও উদ্যোক্তাদের হাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রয়াদেশ রয়েছে। ফলে কারখানা খোলা জরুরি ছিল। সেটি খুলেছে, এতেই আমরা সন্তুষ্ট। তবে লকডাউন শিথিল না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ শ্রমিকের উপস্থিতির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শ্রমিকরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে কর্মস্থলে হাজির হলেই হলো।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি হওয়া লকডাউনের প্রজ্ঞাপনে গত ২৩ জুলাই থেকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে টানা আট দিন বন্ধ থাকে সব পোশাক কারখানা। যদিও এর আগে সর্বশেষ গত ২৮ জুন শুরু হওয়া সীমিত ও পরে ১ জুলাই থেকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধেও চালু ছিল তৈরি পোশাক কারখানা। ওই সময়েই (জুন-জুলাই) মূলত এই বিপুল পরিমাণ অর্ডার পায় পোশাকশিল্পের মালিকরা।

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ
শনিবার ফেরিগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হয় বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। কারণ এই সময়ে লেট সামারের ক্রয়াদেশ সরবরাহে চাপ থাকে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে শীতকালীন বস্ত্রের চাহিদার প্রায় শতভাগ কার্যাদেশও পাওয়া যায় এই তিন মাসের উৎপাদন, জাহাজীকরণ ও সরবরাহ পর্যায় থেকে।

এ ছাড়া প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বড়দিন’। বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বড়দিনের উৎসব ঘিরেও তৈরি পোশাকের আরেকটা বড় চাহিদা তৈরি হয় বিশ্বব্যাপী। ফলে বায়ারদের প্রয়োজনীয় আগাম কার্যাদেশও দেয়া হয় এই তিন মাসের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও সরবরাহে বরাবরই বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। এ বছর অবশ্য ভিয়েতনাম শীর্ষ ২-এ উঠে যায়। পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সব সময়ই বাংলাদেশ পেয়ে আসছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com