October 26, 2026, 3:06 pm
প্রায় ১৭ বছর পর সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ভোটের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর দেশে ফিরে আসা দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটেও বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে অধিকাংশ ভোটার।
নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৭ আসন, স্বতন্ত্ররা ৭ এবং অন্যান্যরা ১টি আসনে জয়ী হয়েছেন। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ের ফলে সরকার গঠন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন তারেক রহমান। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হন। এর মধ্যেই তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর এখন তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠনের অপেক্ষা।
২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী কারচুপি, বিরোধীদের দমন-পীড়ন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে। অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় আদালতের রায়ে তাঁর দণ্ড হয় এবং দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়।
গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হয়। সেই সময় শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে হওয়া গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে মত দেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং একটি উচ্চকক্ষ গঠনের মতো বড় পরিবর্তনের বিষয়ে ৪ কোটির বেশি মানুষ সম্মতি জানিয়েছেন। অনুমোদন পেলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় কাঠামো চালু হবে।
তবে নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ কম নয়। অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ছিল, যদিও তারেক রহমান বরাবরই এসব অস্বীকার করেছেন। দেশে ফেরার পর তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হবে তাঁর নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।
এদিকে ইসলামী রাজনীতির উত্থানও এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্বের দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি প্রত্যাশামতো ফল না পেলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।
ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণে অনেকেই মনে করছেন, দেশে ভোটাধিকার চর্চার পরিবেশ ফিরে এসেছে। কিন্তু এই প্রত্যাশা ধরে রাখতে হলে নতুন সরকারকে দ্রুত সংস্কার, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনমনে হতাশা তৈরি হতে পারে।