May 27, 2026, 5:20 pm
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর বাড্ডায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হলো রক্তের ঋণ শোধের দিন। তিনি তরুণদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে পুরনো বস্তাপচা রাজনীতি বন্ধ করতে আহ্বান জানান এবং দখলবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি দল আছে, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। কিন্তু যে ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাত, তাদেরকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানিয়ে আপনি কি দুর্নীতি দমন করতে পারবেন?” তিনি বলেন, জনগণ এসব বোঝে এবং প্যাঁচাও হাসবে।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণ-আকাঙ্ক্ষার তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট দেশের জন্য মুক্তির দিন হলেও ৬ আগস্ট থেকে আবারও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজিতে অংশগ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। কেন এখন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন?”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ব্যবসায়ীরা এখন জিম্মি। যারা দেশের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, তারা ফিরে এসে খুনের মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা দাবি করছেন। ফুটপাতের ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি এজন্য লড়াই করেছি যে পুরাতন চাঁদাবাজের বোতলে নতুন চাঁদাবাজ জন্ম নেবে?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে দায়িত্ব দিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অপমান করতে চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থান।” ১০ টাকা কেজি চালের প্রতিশ্রুতিকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান বিভিন্ন কার্ড প্রথার বিরুদ্ধেও লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, জনগণ যদি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে। “আমরা নাহিদ ইসলামের মতো তরুণদের পাইলট বানাবো, নিজেরা পেছনের সিটে বসব। যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না,” বলেন তিনি।
জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া জনসভায় এনসিপি ও জামায়াত সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।