May 27, 2026, 5:18 pm
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, সরকারের একটি মহল নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীকে সংসদে পাঠানোর তালিকা করেছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কারও কারও মধ্যে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট-মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনি মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, “কয়েকজন প্রার্থী বলছেন তারা জিতেই গেছেন। আবার সরকারের কেউ কেউ বলছেন—তাদের সংসদে যাওয়া উচিত। বলা হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে পক্ষপাতিত্ব চলছে। ভোট পাক বা না পাক, কিছু লোককে সংসদে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে—এটি খুবই খারাপ।”
এর আগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-৮ আসনের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিএনপির এই নেতা। রাতে শান্তিনগর ইস্টার্ন পয়েন্ট আবাসিক এলাকার ১৮০টি ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে আরেকটি নির্বাচনি মতবিনিময় সভা করার কথা রয়েছে তার।
পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা বছরের পর বছর জেলে থেকেছি, আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের পথ আমরা সুগম করেছি। তাই এককভাবে ২৪-এর দাবিদার কেউ নয়। কিন্তু এখন কেউ কেউ এমন ভাব করছে—যেন তারাই দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছে।”
নিজেদের নিঃস্বার্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, কিন্তু কখনো ক্ষমতা বা মন্ত্রিত্ব চাইনি। অথচ যারা তখন স্কুল-কলেজে পড়ত, আজ তারাই নানা দাবি করছে। প্রমাণ হলো—কিছুদিন আগেও সরকারের ভেতরে তাদের প্রতিনিধিরা ছিল, এখনো আছে।”
আগামী দিনগুলো নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমার ধারণা, আমরা যে সময় পার করে এসেছি, তার চেয়েও ভয়াবহ সময় সামনে আসছে। এই সরকার হোক, পরের সরকার হোক কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার—বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী বর্তমানে ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে এবং সেখান থেকেই নির্বাচনকে নিজেদের মতো করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। “একটি জোটের প্রার্থীদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, তারা আগেই ক্ষমতায় বসে আছে,” বলেন তিনি।
বিএনপিকে টার্গেট করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বিএনপি ১৭–১৮ বছর ক্ষমতায় নেই। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নির্বাচন কমিশন বসিয়েছে, নির্বাচনসূচি দিয়েছে, প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করেছে। তবুও এখন বিএনপিকেই টার্গেট করা হচ্ছে।”
নিজের এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “এই এলাকাতেই আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা। গত ১৭–১৮ বছরে এলাকার মানুষ কোনো এমপির চেহারাও দেখেনি। কিন্তু আমি প্রতিটি দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিলাম।”
তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রী ছিলাম, মেয়র ছিলাম, কিন্তু ক্ষমতার সুবিধা নিইনি। কারণ মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে—তাদের সমস্যা থাকলে যেন আমাকে সহজে পায়, সেই চিন্তা থেকেই সব সময় এলাকায় থেকেছি।”
রমনা পার্ক এলাকায় মানুষের মৌলিক চাহিদার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি সেখানে টয়লেট নির্মাণ, পানির ব্যবস্থা, গাছ লাগানো ও ধুলাবালি কমাতে রাস্তায় পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
শেষে তিনি বলেন, “সব সময় আপনাদের হাতের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও বলছি—আমাকে খুঁজতে হবে না। একটি ফোন দিলেই হবে।”