October 9, 2026, 3:32 pm

যেভাবেই হোক নির্বাচন এ দেশে হবেই : প্রধানমন্ত্রী

যেভাবেই হোক নির্বাচন এ দেশে হবেই : প্রধানমন্ত্রী

যেভাবেই হোক নির্বাচন এ দেশে হবেই এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে। আমার একটাই কথা, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছি। জনগণ ভোট দিলে আছি, ভোট না দিলে নাই। কিন্তু দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।’

শনিবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কাওলায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশবাসীকে সেবা করার সুযোগ দিতে আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চান। উপস্থিত জনতা হাত তুলে ভোট দেওয়ার ওয়াদা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (নেতা-কর্মীরা) আমাদের কথাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। শুধু নিজে ভোট দিলেই হবে না। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশীসহ দেশে-বিদেশে সবার কাছে প্রচার করতে হবে। তাদের বলতে হবে- একমাত্র আওয়ামী লীগই এদেশের উন্নয়ন করতে পারে এবং গণতন্ত্র দিতে পারে।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তারা বিদেশে, এখানে সেখানে ধর্ণা দেয়। ওসব করে কোনও কাজ হবে না। জনগণের শক্তিই বড় শক্তি। আমি ওই শক্তিতেই বিশ্বাস করি। এ দেশের মানুষের ওপর আমরা আস্থা। ১৫ আগষ্ট আমি বাবা-মা ভাই সব হারিয়েছি। হারিয়ে পেয়েছি এ দেশের জনগণকে। তারাই আমার পরিবার, আমার আপনজন। কাজেই তাদের জন্য কাজ করাকে আমি নিজের কর্তব্য ও দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। আমি চাই এ দেশের মানুষ ভালো থাকুক, সুখে থাকুক।’

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। গত শনিবার এই সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারিখ পরিবর্তন করা হয়। সমাবেশ সফল করতে বেলা ১২টা থেকেই সিভিল এভিয়েশন মাঠে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিকাল সোয়া তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাঠটি। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রং-বেরঙ্গের টুপি, গেঞ্জি পরে, ব্যানার-ফেস্টুন-প্লাকার্ড হাতে নিয়ে তাদের মুহুরমুহ স্লোগান কম্পিত করে চারপাশ। সমাবেশ পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে রিজার্ভ গেল কোথায়? আমরা জনগণের জন্য, জনগণের সেবায়, জনগণকে ভ্যাকসিন দিতে সেই টাকা খরচ করেছি। এ ছাড়া এখনও সারা বিশ্বে খাদ্য মন্দা। আমাদের দেশে যেন কোনও অসুবিধা না হয়, আমরা যত টাকা লাগে খাদ্য, তেল, ভোজ্য তেল, গ্যাস যা যা বাইরে থেকে কিনতে হয় সব কিনে এনে মানুষের জন্য ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমরা মানুষের খাদ্য নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না থাকে অন্য কেউ যদি আসে, সব ধ্বংস করে দেবে। এদেশের মানুষ কি সেই ধ্বংস চায়? ওই বিএনপির কথায় নাচতে চায়? স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের কথা শুনতে চায়? আপনারা বলেন, এগুলো কী চান?’ এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী একযোগে না না বলে হাত নাড়েন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি, আসবে না, তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে। এটা খুব স্বাভাবিক। কারণ তারা নির্বাচন করবে তাদের নেতাটা কে? তাদের প্রধানমন্ত্রী কেন হবে? ওই দুর্নীতিবাজ পলাতক আসামি না কি এতিমের অর্থ আত্মসাতকারী। সে নাকি যায় যায়। আরেকটা পলাতক। এজন্য তাদের একটা চেষ্টা নির্বাচন বানচাল করার। তারা জানে নির্বাচন হলে নৌকা মার্কা ভোট পাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। তাই তারা নির্বাচনকে নষ্ট করতে চায়। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। কাজেই এটা যেন করতে পারে। তাই ঢাকাসহ দেশবাসীকে আমি সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির অনশন কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে দেখি, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিএনপি নেতারা অনশন করে। আমি জিজ্ঞেস করি, তারা কয়টা থেকে অনশন শুরু করেছিল? বাসায় কী দিয়ে নাস্তা করে এসেছে? বাড়িতে কী দিয়ে ভাত খাবে? কয় ঘণ্টার অনশন? নাটক করারও একটা সীমা থাকে। (তারা) এই নাটকই করে যাচ্ছে।

বিএনপির দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অর্থপাচারের কারণে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেই সময় মুচলেকা দিয়ে খালেদা জিয়ার ছেলে বিদেশে পালিয়ে যায়। যে নাকি জীবনে আর রাজনীতি করবে না। কিন্তু যে টাকা সে পাচার করেছে, সেই মামলায় এফবিআই সাক্ষ্য দিয়ে গিয়েছিল। সে ওই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তাদের ব্যবসা ছিল অস্ত্র চোরকারবারি, অর্থ পাচারকারী।’

বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার (তারেক রহমান) মা-তো অসুস্থ। আপনারা অনশন করেন। তাহলে ছেলে কেন মাকে দেখতে আসে না? এটা কেমন ছেলে, সেটা আমার প্রশ্ন। মা-তো অসুস্থ মরে মরে। তিনি নাকি যখন তখন মরে যাবেন। এটা ঠিক বয়সও হয়েছে, অসুস্থতো বটেই। তবুও মাকে দেখতে আসে না কেন? আমিতো বলবো, মাকে দেখতে আসুক।’

বিএনপি ভোট কারচুপি করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক সংগ্রাম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। গণতান্ত্রিক ধারা থাকলে পরে একটা দেশের উন্নতি হয়, আর গণতান্ত্রিক ধারা যারা বিশ্বাস করে, তারা ক্ষমতায় থাকলে দেশের যে উন্নয়ন হয়, সেটা আজকে প্রমাণিত।

২০০১ সালে দেশের সম্পদ বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব আমার কাছেও এসেছিল। বলেছিলাম, আমি শেখ মুজিবের মেয়ে দেশের স্বার্থ কখনও বেঁচি না। ক্ষমতার লোভ আমার নেই। খালেদা জিয়া এসে গ্যাসতো দিতেই পারেনি, উল্টো বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করেছে। আর বিদেশ থেকে টাকা এসেছিল এতিমখানার জন্য, এতিম একটা টাকাও পায়নি, সব টাকা মেরে দিয়েছে নিজে।

বিদ্যুত ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরেন, সরকার ঘরে বিদ্যুত দিয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক বেশি খরচ করতে হয়। তাই বিদ্যুত ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। একইভাবে পানি উৎপাদনেও সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। পানি ব্যবহারেও সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচির সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা উপহার দেন স্থানীয় এমপি হাবিব হাসান

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com