August 29, 2026, 1:58 pm

রপ্তানি জালিয়াতিতে বিদেশে আটকা ১৫ হাজার কোটি টাকা

রপ্তানি জালিয়াতিতে বিদেশে আটকা ১৫ হাজার কোটি টাকা

দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করলেও সময়মতো তার মূল্য পরিশোধ করছেন না বিদেশি ক্রেতারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মে পর্যন্ত বিদেশে আটকে থাকা এমন রপ্তানিমূল্যের পরিমাণ ১৪০ কোটি বা ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১০৯ দশমিক ৫০ টাকা)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সময়মতো দেশে না আসা অর্থের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার আটকে আছে ক্রয়াদেশের তুলনায় কম পণ্য সরবরাহ করার কারণে বিল পরিশোধ না করায়। ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার আটকে আছে রপ্তানিকারক দেউলিয়া হয়ে পড়ায় ও ২ কোটি ডলার আটকে আছে আমদানিকারক দেউলিয়া হওয়ার কারণে। ভুয়া রপ্তানির কারণে আটকে আছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ও মামলার কারণে ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, “প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে সিংহভাগই আদায় হয়। কিছু অর্থ ওভারডিউ থাকে। সেটাও আদায়ের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলমান। যেমন- গত বছর মোট ওভারডিউ থেকে ২৮১ মিলিয়ন ডলার আদায় হয়েছে। এখন আদায় না হওয়া বা অপ্রত্যাবাসিত আয় দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি বা ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। এটাও আদায় হবে। তবে কিছুটা সময় লাগতে পারে।’

একাধিক সংস্থার তথ্যের গরমিল বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে মেজবাউল হক বলেন, যখন অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য দেশে বিক্রি হচ্ছে, তখন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তাদের হিসাবে তা রপ্তানি হিসেবে দেখাচ্ছে। কিন্তু এজন্য দেশে কোনো রপ্তানি আয় আসছে না। এই পণ্য যদি আবার বিদেশে রপ্তানি হয়, তাহলেই কেবল রপ্তানি আয় দেশে আসার কথা। এখানেই ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রমতে, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে যাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত হারে রেমিট্যান্স আসছে না। রপ্তানি আয়েও তেমন গতি নেই। কিন্তু বিপরীতে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হচ্ছে তার বায় পরিশোধের পাশাপাশি আমদানির বকেয়া দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়েই বৈদেশিক মুদ্রার অন্তঃপ্রবাহের চেয়ে বহিঃপ্রবাহ বেশি। যার প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, গত ২৩ আগস্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত মজুদ দুই হাজার ৩১৬ কোটি ডলারে নেমে গেছে। যেখানে জুলাই শেষে ছিল দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ডলারে। এ হিসাবে ২৩ দিনে প্রকৃত মজুদ কমেছে ১৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিনই কমছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ।

এদিকে, রিজার্ভ কমে যাওয়ায় ডলারের বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করতে দেশীয় মুদ্রা টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। এতে বেড়ে যায় পণ্যের আমদানি বায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট প্রতি ডলার পেতে যেখানে ব্যয় করতে হতো ৯৫ টাকা, সেখানে চলতি বছরের গত ২৩ আগস্ট বায় করতে হচ্ছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। তবে, এ হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের।

বাস্তবে এরও বেশি দরে ডলার লেনদেন হচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলার কেনাবেচায় নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই মানছে না। ব্যাংকারদের সংগঠন যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ডলারে লেনদেন হচ্ছে তার চেয়েও বেশি দরে। রেমিট্যান্স আহরণ করছে ১১২ টাকা দরে। অথচ নিজেদের সিদ্ধান্ত ছিল ১০৮ টাকা। আর বেশি দরে ডলার আহরণ করায় আমদানির ক্ষেত্রে বেশি দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। এতে পণ্যের আমদানি বায় বেড়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে।

অন্যদিকে ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমাতে এবং জরুরি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার সংকট থাকায় জ্বালানি ও নিত্যপণ্য আমদানি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টের ২৩ দিনে ১৯৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com